• আন্তর্জাতিক
  • রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ইরানে ফিরছে ইন্টারনেট: ৩ হাজার ছাড়াল নিহতের সংখ্যা, নেপথ্যে ট্রাম্পের বড় বার্তা?

রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ইরানে ফিরছে ইন্টারনেট: ৩ হাজার ছাড়াল নিহতের সংখ্যা, নেপথ্যে ট্রাম্পের বড় বার্তা?

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ইরানে ফিরছে ইন্টারনেট: ৩ হাজার ছাড়াল নিহতের সংখ্যা, নেপথ্যে ট্রাম্পের বড় বার্তা?

২০০ ঘণ্টার ‘ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট’ শেষে সীমিত পরিসরে সচল নেটওয়ার্ক; তেহরানের আকাশে ড্রোন নজরদারি আর মার্কিন সতর্কবার্তায় থমথমে মধ্যপ্রাচ্য।

ইরানে চলমান নজিরবিহীন সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে অবশেষে কিছুটা নমনীয় হয়েছে তেহরান। দীর্ঘ প্রায় ২০০ ঘণ্টা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকার পর দেশটিতে সীমিত পরিসরে সচল করা হয়েছে ইন্টারনেট (Internet) পরিষেবা। তবে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি চালাতে তেহরানের আকাশে ওড়ানো হচ্ছে ড্রোন। এদিকে, নতুন করে কোনো রক্তপাত হলে তার পরিণাম ‘ভয়াবহ’ হবে বলে তেহরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মৃত্যুপুরী ইরান: নিহতের সংখ্যা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানজুড়ে চলা এই গণবিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৯০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক নিহতের মধ্যে ২ হাজার ৮৮৫ জনই সাধারণ বিক্ষোভকারী। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়নের কারণেই পরিস্থিতি আপাতত শান্ত মনে হলেও ভেতরে ভেতরে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশটির প্রধান শহরগুলোতে ড্রোন (Drone) ব্যবহার করে সার্বক্ষণিক নজরদারি (Surveillance) চালানো হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

২০০ ঘণ্টার ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট ও সীমিত সংযোগ

বিক্ষোভের খবর যেন বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য প্রায় ২০০ ঘণ্টা ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ভোরে সীমিত পরিসরে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ফিক্সড লাইন ইন্টারনেট সচল করা হয়। তেহরানের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দীর্ঘ বিরতির পর তারা বিদেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ করতে পেরেছেন। তবে সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর এখনো কড়া সেন্সরশিপ জারি রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিক্ষোভের উৎস: অর্থনৈতিক সংকট থেকে সরকার পতনের ডাক

গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। মূলত চরম অর্থনৈতিক সংকট (Economic Crisis) এবং মুদ্রার অবমূল্যায়নের (Currency Devaluation) প্রতিবাদে মানুষ রাস্তায় নামে। তবে দ্রুতই এই আন্দোলন মোড় নেয় রাজনৈতিক রূপান্তরে। সাধারণ মানুষ মানবাধিকার লঙ্ঘন (Human Rights Violation) এবং কয়েক দশকের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা উৎখাতের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে। তেহরান থেকে শুরু করে কাস্পিয়ান সাগরের উপকূলীয় শহরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে এই বিদ্রোহ।

ট্রাম্পের অবস্থান ও সামরিক হামলার সমীকরণ

ইরানের এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে নজর কেড়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য। হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানে সামরিক হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত থেকে তিনি নিজেই সরে এসেছেন। ট্রাম্পের দাবি, “গতকাল সেখানে আটশর বেশি মানুষের ফাঁসি কার্যকরের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয়েছে। এই বিষয়টি আমার সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলেছে।” তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যদি আবারও সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হয় বা নতুন করে রক্তপাত ঘটায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না।

বর্তমান পরিস্থিতি ও অনিশ্চয়তা

বর্তমানে তেহরানের রাজপথ অনেকটা শান্ত দেখা গেলেও জনমনে আতঙ্ক কাটেনি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে এখনো বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বড় কোনো বিক্ষোভ না হলেও ড্রোন নজরদারির কারণে পুরো শহর এক অদৃশ্য কারাগারে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইন্টারনেট খুলে দেওয়া হলেও তেহরান সরকার মূলত বিশ্ব সম্প্রদায়ের চাপ কমানোর চেষ্টা করছে।

Tags: middle east donald trump human rights death toll economic crisis tehran news global politics iran protest internet blackout internet restoration