সারাদেশের ন্যায় নীলফামালীতেও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকট পড়েছে স্থানীয় ডিলাররা (পরিবেশক)। ফাঁকা সেলিন্ডার পড়ে রয়েছে যেখানে সেখানে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশী মূল্য দিয়েও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।
এই সংকটকে কেন্দ্র করে খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ি ও ভোক্তারা মজুতদারদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলছেন। এই অবস্থায় এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিলার ও ব্যবসায়ীদের সাথে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলার এলপিজি বাজারের বর্তমান অবস্থা, সরবরাহ ঘাটতি, মূল্য নির্ধারণের অসামঞ্জস্য এবং ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, “এলপিজির কৃত্রিম সংকট রোধ এবং ভোক্তাদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সংকট মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহব্বান জানান।”
সভায় জেলা এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরস অ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি এবিএম মঞ্জুরুল আলম সিয়াম অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে বিভিন্ন কোম্পানির নির্ধারিত বিক্রয় মূল্যের অসামঞ্জস্য রয়েছে। এতে বাজারে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে এলপিজি ডিলারদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা বন্ধ রাখার আহ্বান জানান। অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন স্বপন বলেন, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত ৩৪টি এলপিজি কোম্পানির মধ্যে মাত্র চার থেকে পাঁচটি কোম্পানি নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ করছে। ফলে সারাদেশেই সংকট তৈরি হয়েছে। তা সত্বেও নীলফামারীতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা কিছু এলপিজিবাহী জাহাজ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে। পাশাপাশি এলসি (ঋণপত্র) জটিলতায় আমদানি কমে গেছে। এতে সরবরাহ চেইনে ঘাটতি তৈরি হলেও এই সংকটকে পুঁজি করে কিছু ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা ‘অতিরিক্ত দাম হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।’ এরফলে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের জন্য গ্রাহকদের অতিরিক্ত এক হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও বেশি দাম দিয়েও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, সাময়িক এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি অল্প সময়েই বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।
নীলফামারী সদর উপজেলার ভুক্তভোগি ও চা দোকানি আলাউদ্দিন বলেন, “গত সপ্তাহে ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনেছি ১ হাজার ৮০০ টাকায়, গত বুধবার সেটাই কিনতে হয়েছে ২ হাজার ২০০ টাকায়।” উপজেলার পলাশবাড়ী বাজারের চা বিক্রেতা মিজান বলেন, “গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। বাসার সিলিন্ডার এনে দোকান চালাচ্ছি। যাঁর কাছ থেকে গ্যাস নিতাম, ফোনেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতি চলমান থাকলে ব্যবসায় লালবাতি জ্বলবে।” গাছবাড়ি এলাকার হোটেল মালিক শামসুল জানান, “গত ১৫ দিন ধরে দ্বিগুণ দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। ২২ কেজির সিলিন্ডার বাদ দিয়ে এখন বাধ্য হয়ে ১২ কেজির নিচ্ছি।”
ভোক্তাদের সংগঠন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) মনে করে, এলপিজির মূল্য নির্ধারণকারী সংস্থা বিইআরসি বাজার তদারকিতে ব্যর্থ হয়েছে। যদিও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন দাবি করছে, বেসরকারি অপারেটরদের কাছে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সংকট কাটাতে প্রশাসনের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র জানান, আমরা সংকট মোকাবিলায় জেলা পর্যায়ে ডিলারদের সাথে বৈঠক হয়েছে। আশা করি, দ্রæত এ সমস্যার সমাধান হবে। তৈয়ব আলী সরকার নীলফামারী।