অভিনয়ের সূত্র ধরেই পরিচয়, তারপর সহকর্মী হিসেবে দীর্ঘ পথচলা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই বোঝাপড়া গভীর থেকে গভীরতর হয়েছে, জন্ম নিয়েছে বন্ধুত্ব, যা শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছে জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য পার্টনারশিপে। বলছি দেশের শোবিজ জগতের অন্যতম আলোচিত ও সফল তারকা দম্পতি তৌকীর আহমেদ এবং বিপাশা হায়াতের কথা। তাদের বিয়ের আড়াই যুগ পর, দাম্পত্যজীবনের শুরুতে তাঁরা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সম্প্রতি একটি পডকাস্ট-এ এসে সেই প্রত্যাশার কথা অকপটে জানালেন একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিপাশা হায়াত।
প্রথম পথচলা ও স্বপ্নের বীজ
মাছরাঙা টেলিভিশনের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘স্টার নাইট’-এ অতিথি হয়ে এসেছিলেন খ্যাতিমান অভিনেতা ও ফিল্মমেকার তৌকীর আহমেদ। সেই আলাপচারিতার এক পর্যায়ে সারপ্রাইজ হিসেবে মঞ্চে হাজির হন বিপাশা। ১৯৯৯ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের এত বছর পরও তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে আলোচনা হয় এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি-তে।
তৌকীরকে নিয়ে স্মৃতিচারণায় বিপাশা হায়াত বলেন, “তৌকীর আহমেদের সঙ্গে আমার পথচলা যখন শুরু, তখন থেকেই আমরা দুজন অনেক স্বপ্ন দেখতাম। একসঙ্গে পৃথিবীর নানা প্রান্তে ঘোরা, প্রাচীন নিদর্শন দেখা, বহু গান শোনা—এসব ছিল আমাদের স্বপ্নের অংশ।”
অভিনয় ছাড়িয়ে জীবনের ক্যানভাস
দুজনেরই সৃজনশীল জগতের মানুষ হওয়ায়, তাঁদের স্বপ্নের জালও ছিল শিল্প ও সৃষ্টিকে ঘিরে। কেবল ভ্রমণ নয়, চলচ্চিত্র নির্মাণ ও শিল্পচর্চা নিয়েও তাঁদের ছিল নানা পরিকল্পনা। বিপাশা আরও যোগ করেন, “আমাদের তীব্র ইচ্ছা ছিল একসঙ্গে সিনেমা দেখা, ভাবনা শেয়ার করা, অনেক বই পড়া। সব মিলিয়ে আমরা চেয়েছিলাম সৃজনশীলতায় ভরা এক স্বপ্নময় জীবন বা ড্রিম লাইফ।”
বিপাশা হায়াত মনে করেন, একটি দীর্ঘ ও সফল দাম্পত্যের জন্য স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ইন্টেলেকচুয়াল বোঝাপড়া এবং অভিন্ন লক্ষ্যের প্রতি বিশ্বাস থাকা জরুরি। সেই বিশ্বাস থেকেই তাঁরা জীবনের চলার পথে এমন একটি লাইফস্টাইল-এর পরিকল্পনা করেছিলেন।
বাস্তবে সেই ‘ড্রিম লাইফ’-এর প্রতিফলন
বিয়ের পর বাস্তবতা কেমন ছিল—এই প্রশ্নের উত্তরে বিপাশা হায়াত দৃঢ়ভাবে জানান যে, তাঁদের প্রত্যাশার সেই স্বপ্নময় জীবনই এখন তাঁরা যাপন করছেন। ২৫ বছরের পথচলায় তাঁদের প্রত্যাশা বিন্দুমাত্র কমেনি, বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা পূর্ণ হয়েছে।
তাঁর ভাষায়, “অনেক সন্ধ্যা গড়িয়ে যখন রাত হয়, আমরা একের পর এক গান শুনি, সিনেমা দেখি। বহু জায়গায় একসঙ্গে ঘুরেছি—যেগুলো ছিল আমাদের আজীবনের স্বপ্ন। আমরা আমাদের ড্রিম লাইফ–ই এখন যাপন করছি।” এই পার্টনারশিপ যে কেবল কেরিয়ার বা পেশাগত গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, তা তাঁর কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বর্তমান ব্যস্ততা ও কেরিয়ার আপডেট
বর্তমানে বিপাশা হায়াত অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরে আছেন। তিনি মূলত ছবি আঁকা এবং লেখালেখির মতো সৃজনশীল কাজে মনোনিবেশ করেছেন। অন্যদিকে, তৌকীর আহমেদ সিনেমা নির্মাণে সক্রিয় ভূমিকা রাখলেও অভিনয়ে তাঁকে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। তবে ফিল্মমেকার হিসেবে তাঁর নতুন নতুন প্রোজেক্ট বরাবরই দর্শক ও সমালোচকদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। তিনি জানান, সর্বশেষ ঈদের একটি প্রোজেক্ট-এ তিনি নাম লিখিয়েছেন, সময় হলে সেটি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন।
বাংলা টেলিভিশন নাটকের স্বর্ণালী যুগের দুই অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ তৌকীর আহমেদ ও বিপাশা হায়াতের এই দীর্ঘ ও সফল দাম্পত্য নিঃসন্দেহে শোবিজ জগতের সফলতম পার্টনারশিপগুলোর মধ্যে অন্যতম।