যেমন দেখা গেছে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) যশোর আর এন রোড ক্রীড়াচক্র মাঠে আয়োজিত পিঠা উৎসবে। বাংলার পিঠাপুলির সুমিষ্ট ভান্ডার নিয়ে প্রতিবছরের মতো এবারও অনুষ্ঠিত হলো বিটিএইচ পিঠা উৎসব। এই উৎসবে বিটিএইচ অভিভাবকেরা নিজ নিজ শিশুসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে তৈরি করা পিঠা দিয়ে দোকান সাজান।
বিকালে আর এন রোড ক্রীড়া চক্র মাঠে এবার প্রায় অর্ধশত স্টল নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় এই পিঠার মেলা।
সঙ্গে ছিল বিটিএইচ বেস্ট মিঠা মেকার ২০২৬ পুরস্কার। এই আয়োজনের লক্ষ্য ছিল, আমাদের সংস্কৃতির অঙ্গ পিঠাশিল্পের সঙ্গে শিশুর পরিচয় ঘটানো এবং শিশুর সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাকে আরো কর্মমুখী ও সৃজনশীল করে তোলা।
পিঠা বিক্রির উদ্দেশ্য-পিঠা তৈরিতে পরিবারের কঠোর পরিশ্রমকে মূল্যায়ন করা। যেকোনো পিঠা বিক্রি করা যাবে, তবে প্রতিযোগিতার শর্ত ছিল, স্টলে শিশুকে সাথে নিয়ে তৈরি করা দেশি পিঠার আইটেম থাকতেই হবে।
বিকেল থেকেই মেলাপ্রাঙ্গণ পিঠার সুঘ্রাণে মোহনীয় হয়ে ওঠে। শতাধিক রকমের পিঠায় সাজানো স্টল ঘিরে ছিল ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড়। কেউ ঘুরে ঘুরে স্টল দেখছেন, কেউ পছন্দের পিঠা কিনে স্টলের সামনে দাঁড়িয়েই উদরে ভরছিলেন। অনেকে পিঠা কিনে নিয়ে যাচ্ছিলেন পরিবারের জন্য।
পিঠা উৎসবে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিত পিঠা উৎসবে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আয়োজকরা জানান, উৎসবস্টলে পরিপাটি করে সাজানো একেকটি পিঠা তৈরির পেছনে আছে মা ও সন্তানের যৌথ শ্রমের গল্প।
বাড়ির হেঁেশলে মায়েদের সাথে হাতে হাত লাগিয়ে রকমারি সব পিঠা গড়েছে শিশুরা। উৎসবে পিঠা প্রদর্শনের মাধ্যমে বেস্ট পিঠা মেকার পুরস্কার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রধান শর্তই ছিল- সন্তানদের সাথে নিয়ে দেশীয় পিঠা তৈরি করবেন মায়েরা।
এদিন দুপুর আড়াইটায় উদ্বোধন হয় বর্ণাঢ্য উৎসবের। প্রতিপাদ্য ছিল- ‘খুব কম বাচ্চাই পিঠা বোঝে। আমাদের বাচ্চাদের পিঠা চেনাই’। উদ্বোধনের পর মায়ের সাথে বাড়িতে পিঠা তৈরি করা, পিঠে নিয়ে চলে বেচাবিক্রি। সময় যত গড়াতে থাকে ততই জমজমাট হতে থাকে উৎসব।
সরেজমিন উৎসবের ৫০টি স্টল ঘুরে দেখা যায়, বাহারি সব নকশা ও শৈলির পিঠা টেবিল জুড়ে সাজানো। শহুরে মেলায় গ্রামীণ পিঠা-পুলির সুঘ্রাণে চারপাশে মৌ মৌ করছে। বহু ধরনের তেলেভাজা পিঠেতে ঠাসা ছিল স্টলগুলো। ফুল পিঠা, রসের পিঠা, ভেজিটেবল রোল, চিকেন পুলি, মাছ পিঠা, নুডলস পিঠা, ক্ষীরের পাটিসাপটা পিঠা, ভাপাপুলি, দুধ পাকান, ঝাল ননিয়া পিঠা, পাকসাজ পিঠা, মালপোয়া, ভাজাপুলি, সেমাইপিঠা, নিমকি পিঠা, ফুলঝুরি পিঠা, বিস্কুট পিঠা, চন্দ্রচূড়া ছাড়াও শতাধিক পিঠে বানিয়ে নিয়ে এসেছিল মা ও শিশুরা।
বাড়িতে তৈরি করে আনা ছাড়াও উৎসবস্থলে চুলাতে কড়াই পেতে তেলে ভেজে ক্রেতাদের গরম গরম পিঠে সরবরাহ করতে দেখা যায়।
এদিকে, উৎসবে আরেকটি আকর্ষণ ছিল খেজুরের রস। মাটির ভাড়ে রাখা খেজুরের রস গ্লাস প্রতি ৩০ টাকা দরে বিক্রি করে আয়োজকরা।
পিঠা ছাড়াও স্টলগুলোয় বিক্রি হয়েছে হাঁসের মাংস ও ছিটা রুটি। এছাড়া, ব্যতিক্রমী পিঠার মধ্যে ছিলÑ লবঙ্গ লতিকা পিঠা, দুধ খেজুরের পিঠা ও মুগডালের পিঠা। আরো ছিলÑ নকশি পিঠা, গোলাপ পিঠা, গাজরের লাডডু, কলিজা, সিংগাড়া মাছের টিকিয়া, কিমা পুলি, ডিম সুন্দরী, মেরাং কুকিজ, বরফি, পুডিং ও ছানার জিলাপি।
উৎসবের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন স্টল পরিদর্শনের পর পুরস্কার বিতরণ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, আরএন রোড ক্রীড়াচক্রের সভাপতি গোলাম কাদের ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বিপ্লব, যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এজাজ উদ্দিন টিপু, আরএন রোড ক্রীড়া চক্রের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদ উল্লাহ খান বিপ্লব ও আরএন রোড ক্রীড়া চক্রের অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক, দৈনিক সুবর্ণভূমির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আয়াজ উদ্দীন রিপন।
প্রতিযোগিতার বিচারক প্যানেলে ছিলেন বিশিষ্ট পিঠা মেকার তানি’স কিচেনের স্বত্ত্বাধিকারী তানি আফরোজ, বিশিষ্ট পিঠা বিশারদ সুরাইয়া আক্তার, বিশিষ্ট রন্ধন বিশেষজ্ঞ সালমা হোসেন, বিটিএইচ শিক্ষক প্রতিনিধি মিথিলা জাহান এবং বিচারক মণ্ডলীর সভাপতি ব্রাদার টিটো।
উৎসবে বেস্ট স্টল অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে ওমর জুওরাইরিয়া। দ্বিতীয় রানারআপও হয়েছে ওমর জুওরাইরিয়া ও প্রথম রানার্স আপ সাইরান গালিব। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তাসনিম জেমি।