• রাজনীতি
  • দেশের শিল্প-সংস্কৃতির সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা: তারেক রহমানের সঙ্গে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ

দেশের শিল্প-সংস্কৃতির সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা: তারেক রহমানের সঙ্গে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
দেশের শিল্প-সংস্কৃতির সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা: তারেক রহমানের সঙ্গে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ

সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চা ও জাতীয় জাগরণে লেখক-সাহিত্যিকদের ভূমিকা নিয়ে গুলশানে দীর্ঘ বৈঠক; প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন।

বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ গতিপথ এবং সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক (DG) ও বরেণ্য কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

দেশের চলমান সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি এবং একটি বৈষম্যহীন ও সৃজনশীল সমাজ গঠনে শিল্প-সাহিত্যের ভূমিকা নিয়ে এই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দলের উপস্থিতি

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিনের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলে দেশের বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বৈঠকে তারা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দেশের শিল্প-সংস্কৃতির বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

জাতীয় জাগরণে সৃজনশীলতার গুরুত্ব

সাক্ষাৎকালে তারেক রহমান অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে প্রতিনিধি দলের কথা শোনেন এবং দেশের ক্রান্তিলগ্নে লেখক ও সাহিত্যিকদের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে রাজনীতির পাশাপাশি শিল্প-সাহিত্যের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি বিশেষভাবে ‘National Awakening’ বা জাতীয় জাগরণ তৈরিতে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মতে, সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি সমাজ থেকে মৌলবাদ, অসহিষ্ণুতা ও সাংস্কৃতিক দাসত্ব দূর করার অন্যতম হাতিয়ার। তিনি দেশের সাহিত্যিকদের নির্ভীকভাবে সত্য প্রকাশের এবং দেশজ সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও সুস্থ ধারার সংস্কৃতি

বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সংবাদমাধ্যমকে জানান, এটি মূলত একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও দেশের শিল্প-সাহিত্যের মানোন্নয়ন নিয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে গত কয়েক দশকের একপাক্ষিক সাংস্কৃতিক বলয় ভেঙে একটি ‘Inclusive’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল তৈরির বিষয়ে তারা তারেক রহমানের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চান।

কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন জানান, শিল্পকলা একাডেমিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে কীভাবে একটি প্রকৃত জাতীয় প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা যায় এবং প্রান্তিক পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা শিল্পীদের ‘Mainstream’ বা মূলধারায় নিয়ে আসা যায়, তা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

সাংস্কৃতিক কূটনীতি ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট

বৈঠকে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ‘Cultural Diplomacy’ বা সাংস্কৃতিক কূটনীতি জোরদার করার বিষয়টিও উঠে আসে। তারেক রহমান মনে করেন, বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্য ও আধুনিক শিল্পকর্মের যে বৈচিত্র্য রয়েছে, তা সঠিকভাবে উপস্থাপিত হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে।

এই সাক্ষাৎ দেশের বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক মহলে একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে রেজাউদ্দিন স্টালিনের এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনের নতুন ইঙ্গিত বহন করছে।

Tags: tarique rahman bangladesh culture bnp news gulshan office shilpakala academy rezauddin stalin literary meeting national awakening art and literature cultural policy