ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্বে বড় এক চমক দেখা গেল নির্বাচন কমিশনে (Election Commission)। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের (Returning Officer) দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির শেষ দিনে হঠাৎ সশরীরে উপস্থিত হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (NCP) প্রভাবশালী নেতা ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বর্তমানে তিনি দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানির দ্বিতীয় অধিবেশনে তার এই ঝটিকা উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
দ্বৈত নাগরিকত্ব ও আইনি লড়াইয়ের ময়দানে আসিফ মাহমুদ
এনসিপির মিডিয়া সেলের সমন্বয়ক মাহবুব আলম জানিয়েছেন, আসিফ মাহমুদের এই উপস্থিতির পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট আইনি উদ্দেশ্য রয়েছে। মূলত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলের অন্যতম কারণ ছিল ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব’ (Dual Citizenship)। নির্বাচন কমিশনের এই অন্তিম শুনানিতে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বৈধতা ও আইনি মারপ্যাঁচ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে জোরালো অবস্থান তুলে ধরতেই তিনি উপস্থিত হয়েছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে এবং রিজেক্টেড ক্যান্ডিডেটদের (Rejected Candidates) পক্ষে যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতেই আসিফ মাহমুদ সরাসরি ইসি শুনানিতে অংশ নেন।
শুনানি ও আপিলের পরিসংখ্যান
গত ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক আপিল শুনানি আজ ১৮ জানুয়ারি শেষ হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছিল। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রাথমিক বাছাইয়ে রেকর্ড সংখ্যক ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল। ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল গ্রহণ শেষে ১০ জানুয়ারি থেকে পুরোদমে শুনানি শুরু করে কমিশন। শনিবার পর্যন্ত ৬১০ নম্বর আপিল পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়েছে এবং আজ শেষ দিনে বাকি আবেদনগুলোর ওপর রায় ঘোষণা করা হচ্ছে।
নির্বাচনের পরবর্তী রোডম্যাপ ও সময়সূচি
নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত তফসিল (Revised Schedule) অনুযায়ী, আজই আপিল নিষ্পত্তির শেষ দিন। তবে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য পরবর্তী কয়েক দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমিশনের দেওয়া সময়সূচি অনুযায়ী:
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ: ২০ জানুয়ারি।
প্রতীক বরাদ্দ ও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি।
নির্বাচনী প্রচারণা (Election Campaign) শুরু: ২২ জানুয়ারি থেকে।
প্রচারণার সময়সীমা: ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।
ভোটগ্রহণ (Election Day): ১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার। ওই দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসিফ মাহমুদের মতো তরুণ ও আলোচিত নেতাদের সরাসরি নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে অংশগ্রহণ নির্বাচনকে ঘিরে দলগুলোর সিরিয়াসনেস বা গুরুত্বকেই ফুটিয়ে তুলছে। বিশেষ করে ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব’ নিয়ে ইসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হয়, তার ওপর নির্ভর করছে বেশ কিছু হাই-প্রোফাইল প্রার্থীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।