• আন্তর্জাতিক
  • রণক্ষেত্র মিনিয়াপোলিস: ট্রাম্পের নির্দেশের অপেক্ষায় ১৫০০ সেনা, জারি হতে পারে ‘বিদ্রোহ আইন’

রণক্ষেত্র মিনিয়াপোলিস: ট্রাম্পের নির্দেশের অপেক্ষায় ১৫০০ সেনা, জারি হতে পারে ‘বিদ্রোহ আইন’

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
রণক্ষেত্র মিনিয়াপোলিস: ট্রাম্পের নির্দেশের অপেক্ষায় ১৫০০ সেনা, জারি হতে পারে ‘বিদ্রোহ আইন’

আইসিই এজেন্টের গুলিতে মার্কিন নাগরিক নিহতের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে শহর; বিক্ষোভ দমনে সামরিক শক্তির ব্যবহারের পথে হাঁটছে হোয়াইট হাউস।

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে চলমান অভিবাসনবিরোধী (ICE) বিক্ষোভ দমনে এক নজিরবিহীন সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আলাস্কায় অবস্থিত ফোর্ট ওয়েনরাইটের ১১তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় দেড় হাজার সেনাকে সতর্কাবস্থায় (Alert) রাখা হয়েছে। হোয়াইট হাউস থেকে সবুজ সংকেত পেলেই যেকোনো মুহূর্তে এসব সেনাকে মিনিয়াপোলিসের রাস্তায় মোতায়েন করা হতে পারে।

প্রতিরক্ষা দপ্তরের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে (CBS News) জানিয়েছেন, সেনাদের মোতায়েনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন সম্পূর্ণভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে। মূলত ৭ জানুয়ারি আইসিই এজেন্টের গুলিতে রেনি গুড নামে এক মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর পর থেকেই শহরটিতে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে।

সহিংসতার সূত্রপাত ও ‘রেনি গুড’ হত্যাকাণ্ড

রেনি গুড পেশায় একজন আইনি পর্যবেক্ষক (Legal Observer) ছিলেন। ঘটনার দিন তিনি মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্ট (ICE) এজেন্টের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছিলেন। ওই সময় একজন আইসিই এজেন্টের গুলিতে তাঁর মৃত্যু হলে স্থানীয় জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা ‘রেনি গুডের বিচার চাই’ স্লোগানে রাজপথ দখল করে নিয়েছেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন রেনি গুডকে ‘দেশীয় সন্ত্রাসী’ (Domestic Terrorist) হিসেবে আখ্যায়িত করায় আগুনের ঘি পড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও সংঘাতপূর্ণ করে তুলেছে।

বিদ্রোহ আইন ও সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি

বিক্ষোভ দমনে ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ (Insurrection Act) বা বিদ্রোহ আইন জারির সরাসরি হুমকি দিয়েছেন। এই আইন কার্যকর হলে মার্কিন ভূখণ্ডে অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সরাসরি সক্রিয় সেনাসদস্যদের (Active Duty Troops) ব্যবহারের আইনি বৈধতা তৈরি হবে। ইতিমধ্যে মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ ন্যাশনাল গার্ড (National Guard) বাহিনীকে তলব করেছেন এবং স্থানীয় পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রেখেছেন। তবে সরাসরি সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি নাগরিক অধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

আদালতের ঐতিহাসিক রুল ও আইনি বাধা

হোয়াইট হাউস কঠোর অবস্থানের পথে হাঁটলেও ফেডারেল আদালত বিক্ষোভকারীদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। ফেডারেল বিচারক ক্যাথরিন মেনেন্দেজ শুক্রবার একটি জরুরি রুল জারি করেছেন। আদালতের নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, ফেডারেল এজেন্টরা কোনো ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীকে’ গ্রেফতার করতে পারবে না। এছাড়া বিক্ষোভকারীদের ওপর গোলমরিচের গুঁড়ো (Pepper Spray) ব্যবহার করা এবং আইনি পর্যবেক্ষকদের কাজে বাধা দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিচারকের এই আদেশ ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক পরিকল্পনার সামনে একটি বড় আইনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নাগরিক অধিকার ও মানবিক সংকট

মিনিয়াপোলিসের স্থানীয় নেতা এবং মানবাধিকার কর্মীরা প্রশাসনের এই আক্রমণাত্মক মনোভাবের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একজন আইনি পর্যবেক্ষককে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করাকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন তাঁরা। বর্তমানে মিনেসোটার প্রধান বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকাগুলোতে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সেনাসদস্যদের এই সম্ভাব্য মোতায়েন কেবল মিনিয়াপোলিস নয়, বরং পুরো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় সামরিক হস্তক্ষেপের প্রশ্নে একটি নতুন সাংবিধানিক সংকট তৈরি করতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স।

Tags: federal court donald trump human rights ice agents military deployment insurrection act civil unrest renee good minneapolis protests minnesota news