ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে ফের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত সাতজন ভারতীয় সেনা আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে জম্মু ও কাশ্মীরের কিশ্তওয়ার জেলায়।
সংঘর্ষের বিস্তারিত ও 'অপারেশন ত্রাশি-আই' নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, কিশ্তওয়ারের চাত্রু এলাকার সন্নার অঞ্চলে জঙ্গিদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছিলেন ভারতীয় সেনারা। এটি ‘অপারেশন ত্রাশি-আই’ নামের একটি বৃহত্তর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ। অভিযান চলাকালে লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়, যার প্রত্যুত্তরে সেনারা পাল্টা জবাব দিলে তীব্র বন্দুকযুদ্ধের সূত্রপাত হয়।
আহত সেনাদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর জম্মুভিত্তিক ‘হোয়াইট নাইট কর্পস’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে এই পরিকল্পিত তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। সংঘর্ষ চলাকালীন কঠিন ভূপ্রকৃতি এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সাহসিকতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য সেনাদের প্রশংসা করা হয়েছে।
জঙ্গি গোষ্ঠী ও নিরাপত্তা কৌশল কর্মকর্তাদের ধারণা, এই হামলায় একদল বিদেশি সন্ত্রাসী জড়িত। তারা পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ (Jaish-e-Mohammed বা JeM)-এর সদস্য হতে পারে। সন্ত্রাসীরা ঘেরাও ভাঙার চেষ্টা করে নির্বিচারে গুলি চালানোর পাশাপাশি কয়েকটি গ্রেনেডও নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (CRPF) ও জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে পুরো এলাকাটিকে আরও জোরদারভাবে ঘিরে ফেলা হয়েছে।
অভিযান দ্রুত শেষ করতে আধুনিক নজরদারি সরঞ্জাম যেমন ড্রোন (Drone) এবং স্নিফার ডগ (Sniffer Dog) ব্যবহার করা হচ্ছে।
চলতি বছরে তৃতীয় সংঘর্ষ চলতি বছরে জম্মু অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যে এটি তৃতীয় সংঘর্ষের ঘটনা। এর আগে ৭ এবং ১৩ জানুয়ারি কাঠুয়া জেলার বিলাওয়ার এলাকার কাহোগ ও নাজোটে অরণ্যে দুটি পৃথক সংঘর্ষ হয়েছিল। সর্বশেষ এই ঘটনা উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর নতুন করে প্রশ্ন তুলল।