• দেশজুড়ে
  • গুম ও নির্যাতনের বিচার শুরু: শেখ হাসিনাসহ ১২ সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আজ থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ

গুম ও নির্যাতনের বিচার শুরু: শেখ হাসিনাসহ ১২ সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আজ থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
গুম ও নির্যাতনের বিচার শুরু: শেখ হাসিনাসহ ১২ সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আজ থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আজ থেকে শুরু হচ্ছে ঐতিহাসিক শুনানি; ২৬ জনকে গুম ও জেআইসি সেলে অমানবিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ প্রসিকিউশনের।

বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে আজ। গোপন বন্দিশালা বা ‘জেআইসি সেল’-এ নাগরিকদের আটকে রেখে গুম ও পৈশাচিক নির্যাতনের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক ও বর্তমান ১২ জন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচারিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার সূচনা বক্তব্য (Opening Statement) পেশ এবং সাক্ষ্যগ্রহণের (Witness Testimony) দিন ধার্য করা হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধ ও দীর্ঘমেয়াদী নির্যাতনের খতিয়ান

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম ও নির্যাতনের সংস্কৃতি বজায় রাখা হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে অন্তত ২৬ জন ব্যক্তিকে বলপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া বা ‘Enforced Disappearance’-এর শিকার করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, অপহৃত ব্যক্তিদের ডিজিএফআই-এর বিতর্কিত ‘জেআইসি সেল’ বা ‘Joint Interrogation Cell’-এ দিনের পর দিন আটকে রেখে অবর্ণনীয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও দেশীয় ফৌজদারি বিধি ভঙ্গ করে পরিচালিত এই কার্যক্রমকে প্রসিকিউশন ‘Crimes Against Humanity’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

কাঠগড়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা

এই মামলার মোট ১৩ জন আসামির মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাকি ১২ জনের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন সময়ে সামরিক বাহিনীর প্রভাবশালী পদে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তারা। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, পলাতক আসামিদের মধ্যে ৫ জনই বিভিন্ন সময়ে দেশের অন্যতম শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই (DGFI)-এর মহাপরিচালক বা ‘Director General’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন ৩ জন সেনা কর্মকর্তা, যাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার কথা রয়েছে।

প্রসিকিউশন বনাম ডিফেন্স: আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি

তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন টিমের দাবি, তাদের কাছে গুম ও নির্যাতনের অকাট্য প্রমাণ এবং ডিজিটাল এভিডেন্স (Digital Evidence) রয়েছে। জেআইসি সেলে বন্দি থাকা ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি এবং গোয়েন্দা নথিপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হবে। অন্যদিকে, গ্রেফতারকৃত আসামিদের আইনজীবীরা শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। বিবাদী পক্ষ ইতিমধ্যে আদালতে আসামিদের নির্দোষ দাবি করে অব্যাহতি বা ‘Acquittal’-এর আবেদন করেছেন। ফলে ট্রাইব্যুনালে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি তীব্র আইনি লড়াই বা ‘Legal Battle’ শুরু হতে যাচ্ছে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে গভীর পর্যবেক্ষণ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই বিচার প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো। ট্রাইব্যুনালের এই কার্যক্রমকে স্বচ্ছ এবং ‘Neutral’ রাখার চ্যালেঞ্জ যেমন রয়েছে, তেমনি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের বিচার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাও এর সাথে জড়িত। আদালত পাড়ায় আজকের এই শুনানিকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা ‘Strict Security’ নিশ্চিত করা হয়েছে।

শেখ হাসিনার শাসনামলে ‘গুম’ ছিল সবচাইতে বিতর্কিত এবং ভীতিকর একটি ইস্যু। আজ থেকে শুরু হওয়া এই বিচারিক প্রক্রিয়া কেবল ব্যক্তিবর্গের বিচার নয়, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অপব্যবহার রোধে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Tags: sheikh hasina human rights bangladesh law ict bangladesh enforced disappearance jic cell dgfi military officials torture cell legal trial