দেশের সিভিল সার্ভিসে যোগদানের স্বপ্ন দেখা লাখো চাকরিপ্রার্থীর জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ৩০ জানুয়ারি। এই মেগা পরীক্ষার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অনিয়ম রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। পরীক্ষার দিন ঢাকার প্রতিটি কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১০২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (Executive Magistrate) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
৯২ কেন্দ্রে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ৩০ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকার ৯২টি কেন্দ্রে একযোগে ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি টেস্ট (MCQ Type) অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ৯২ জন কর্মকর্তাকে প্রতিটি হলের জন্য একজন করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব কর্মকর্তাদের 'মোবাইল কোর্ট আইন' (Mobile Court Act) অনুযায়ী তাৎক্ষণিক বিচারিক ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে, যাতে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা জালিয়াতির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
বিপিএসসি কন্ট্রোলরুম ও বিশেষ তদারকি
মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত ৯২ জন ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়াও বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন (BPSC) সচিবালয়ের প্রধান কন্ট্রোলরুমের কার্যক্রম সমন্বয় ও জরুরি তদারকির জন্য অতিরিক্ত ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সর্বমোট ১০২ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এই বিশাল কর্মযজ্ঞের তদারকিতে সরাসরি নিয়োজিত থাকবেন। আধুনিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সঠিক মেধাবী নির্বাচন বা ‘Job Creation’-এর এই মহতী উদ্যোগে সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই নজরদারি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ম্যাজিস্ট্রেটদের ব্রিফিং ও রিপোর্টিং সময়সূচি
পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিতে আগামী ২০ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টায় বিপিএসসি ভবনে একটি বিশেষ ‘Briefing Seminar’-এর আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে নিয়োজিত সকল কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষার দিন ভোর ৪টায় সকল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বিপিএসসি সচিবালয়ে রিপোর্ট করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে পরীক্ষার সরঞ্জাম বিতরণ ও কেন্দ্র পরিদর্শনের কাজগুলো সূচারুরূপে সম্পন্ন করা যায়।
মেধাবীদের লড়াই এবং বিপিএসসির প্রস্তুতি
৫০তম বিসিএস একটি বিশেষ মাইলফলক হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। বিপিএসসি সূত্র জানায়, পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন, কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা ঘড়ি ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আধুনিক ‘Digital Discourse’ ব্যবহার করে কোনো ধরনের প্রশ্নপত্র ফাঁস বা জালিয়াতি যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ উইংগুলো তৎপর রয়েছে।
সরকারের এই জিরো টলারেন্স নীতি এবং বিপুল সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন প্রমাণ করে যে, দেশের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতামূলক এই পরীক্ষায় মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে প্রশাসন বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নয়।