• আন্তর্জাতিক
  • সিঙ্গুরে মোদির হুঙ্কার: ‘ভোটব্যাংকের স্বার্থে সীমান্ত সুরক্ষায় বাধা দিচ্ছেন মমতা’

সিঙ্গুরে মোদির হুঙ্কার: ‘ভোটব্যাংকের স্বার্থে সীমান্ত সুরক্ষায় বাধা দিচ্ছেন মমতা’

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
সিঙ্গুরে মোদির হুঙ্কার: ‘ভোটব্যাংকের স্বার্থে সীমান্ত সুরক্ষায় বাধা দিচ্ছেন মমতা’

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে জমি অধিগ্রহণে অসহযোগিতা ও অনুপ্রবেশে মদত দেওয়ার অভিযোগে তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ প্রধানমন্ত্রীর।

২০০৬ সালের ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত সিঙ্গুরের মাটি থেকে রাজ্য সরকারকে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ‘Vote Bank’ রক্ষার তাগিদে বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করছেন। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে অনুপ্রবেশকারীদের অবাধ প্রবেশ সুনিশ্চিত করাই এখন রাজ্য সরকারের অঘোষিত নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সীমান্ত সুরক্ষা ও অনুপ্রবেশের অভিযোগ

দ্য স্টেটসম্যানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মোদি অভিযোগ করেন যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দীর্ঘকাল ধরে ঝুলে থাকা কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করতে রাজ্য সরকার ‘Land Acquisition’ বা ভূমি অধিগ্রহণে চরম অসহযোগিতা করছে। মোদির কথায়, “মমতা দিদি সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চান না, কারণ অনুপ্রবেশকারীরাই ওঁর রাজনীতির মূল শক্তি। জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে এই আপস বাংলার পাশাপাশি দেশের জন্যও বিপজ্জনক।” তিনি আরও যোগ করেন, অনুপ্রবেশ রুখতে কেন্দ্রীয় সরকারের সক্রিয় প্রচেষ্টাকে তৃণমূল সরকার পদে পদে ব্যাহত করছে।

জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে বঞ্চনার অভিযোগ

সিঙ্গুরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, স্রেফ রাজনৈতিক বিরোধিতার খাতিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো রাজ্যে বাস্তবায়িত হতে দিচ্ছেন না। বিশেষ করে ‘মৎস্যজীবী যোজনা’-র প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অন্যান্য রাজ্য এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে মৎস্যজীবীদের নাম নথিভুক্ত করলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার তা আটকে রেখেছে। মোদি আক্ষেপ করে বলেন, “আমি এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েছি, কিন্তু তিনি সেই চিঠি পড়ারও প্রয়োজন বোধ করেন না। তৃণমূল সরকারের কাছে মৎস্যজীবীদের স্বার্থের চেয়ে রাজনৈতিক জেদ বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।” এর ফলে রাজ্যের সাধারণ মানুষ কেন্দ্রের ‘Public Welfare Schemes’ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে তিনি সরব হন।

অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণ ও ‘ওডিপি’ নীতি

রাজ্যের অর্থনৈতিক স্থবিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মোদি ঘোষণা করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গে ‘One District One Product’ (ODOP) নীতি কার্যকর করা হবে। তিনি বলেন, “বাংলার প্রতিটি জেলার নিজস্ব বিশেষত্ব এবং প্রতিভা রয়েছে। প্রতিটি জেলাকে একটি নির্দিষ্ট পণ্যের ‘Hub’ হিসেবে গড়ে তুলে কর্মসংস্থান ও রফতানি বৃদ্ধি করাই আমাদের লক্ষ্য।” এই নীতির মাধ্যমে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে জোয়ার আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সিন্ডিকেট রাজের অবসান ও নারী নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কড়া সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়নের বদলে ‘Mafia Raj’ এবং ‘Syndicate Raj’ জেঁকে বসেছে। তিনি স্পষ্ট জানান, নতুন ‘Investment’ বা বিনিয়োগ আনার জন্য যে স্থিতিশীল পরিবেশ প্রয়োজন, তা বর্তমান সরকারের আমলে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

মোদি জনসভায় ‘গ্যারান্টি’ দিয়ে বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে সিন্ডিকেট ট্যাক্স প্রথা চিরতরে বিলুপ্ত করা হবে। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের পাশাপাশি ‘Women Security’ বা নারী নিরাপত্তাকেই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি। সিঙ্গুরের এই জনসভা থেকে মূলত সীমান্ত সুরক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সুশাসনের বার্তাকেই আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী।

Tags: political news narendra modi border security west bengal news mamata banerjee singur rally infiltration issue syndicate raj land acquisition odop policy bjp tmc fisherman scheme