রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ‘High-voltage’ বৈঠকে বসেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দেশের চলমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের মাঝে এই ‘Diplomatic Meeting’ অত্যন্ত গুরুত্ববহ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রুদ্ধদ্বার বৈঠকের প্রেক্ষাপট
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগেই কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গুলশান কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখানে তাকে স্বাগত জানান বিএনপির সিনিয়র নেতারা। বৈঠকটি মূলত বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মানবাধিকার এবং আগামী দিনের গণতান্ত্রিক রূপরেখা নিয়ে আলোচনার একটি কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সামগ্রিক ‘Political Stability’ বা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা চলছে এই বৈঠকে।
উপস্থিত যারা ছিলেন
বৈঠকে বিএনপির পক্ষে তারেক রহমানের সঙ্গে একযোগে উপস্থিত রয়েছেন দলের একঝাঁক শীর্ষ নীতিনির্ধারক। তাদের মধ্যে রয়েছেন:
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (মহাসচিব, বিএনপি)
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (স্থায়ী কমিটির সদস্য)
হুমায়ুন কবির (চেয়ারম্যানের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য)
ড. মাহাদী আমিন (চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য)
সালেহ শিবলী (চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব)
এছাড়াও ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা রাষ্ট্রদূতের প্রতিনিধি হিসেবে এই আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন।
কূটনৈতিক তৎপরতা ও আগামীর বার্তা
বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই সফর কেবল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়; বরং এটি বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতির গতিপথ বুঝতে ‘Strategic Engagement’-এর অংশ। বিশেষ করে ‘Democracy’ বা গণতন্ত্র রক্ষা এবং ‘Fair Governance’ বা সুশাসন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যে গভীর আগ্রহ রয়েছে, এই বৈঠক তারই প্রতিফলন। তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দলের অবস্থান এবং তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিতে চাইছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল
বৈঠক শেষ হওয়ার আগে বিস্তারিত কোনো তথ্য সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করা না হলেও, দুই পক্ষের এই দীর্ঘ আলোচনা দেশের ‘Bilateral Issues’ বা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। কূটনৈতিক পাড়ায় গুঞ্জন রয়েছে যে, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধার মতো বিষয়গুলো এই আলোচনায় প্রাধান্য পেতে পারে।
গুলশান কার্যালয় থেকে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রস্থানের পর বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ‘Press Briefing’ দেওয়া হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সারা দেশ।