জলবায়ু সহনশীল আশ্রয়ণ কেন্দ্রের বিশেষত্ব
এই 'অ্যাডাপটেশন ফোর্ট্রেস' মূলত বিদ্যমান স্কুল ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রকে একটি জলবায়ু সহনশীল কাঠামোতে রূপান্তর করছে। তীব্র তাপপ্রবাহের সময় এটি নিরাপদ ও শীতল আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। বিদ্যুৎ চলে গেলেও সৌরবিদ্যুৎ ও বিকল্প ব্যাটারির মাধ্যমে শীতলীকরণ–ব্যবস্থা সচল রাখার বিশেষ ব্যবস্থা এতে থাকছে। এছাড়াও, এখানে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ স্থানীয় জনগণের সাথে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। এর মাধ্যমে আশ্রয়কেন্দ্রটি জলবায়ু সহনশীলতার একটি স্থানীয় কেন্দ্রে হিসেবে কাজ করবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও গুরুত্ব
এই পাইলট প্রকল্পটি সফল হলে পুরো অঞ্চলে মোট ১ হাজার ২৫০টি 'অ্যাডাপটেশন ফোর্ট্রেস' স্থাপনের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে প্রায় ৫ লাখ মানুষ ভবিষ্যতে তীব্র তাপপ্রবাহের সময় নিরাপদ আশ্রয়ের সুযোগ পাবেন। ইতোমধ্যে যশোর জেলার সাতবাড়িয়া হাইস্কুলে দ্বিতীয় পাইলট প্রকল্পের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত
কমিউনিটি জামিলের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল লতিফ জামিল কেবিই এই নির্মাণকাজকে বাংলাদেশ ও এই অঞ্চলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে তাপজনিত দুর্যোগ আরও ঘন ঘন ঘটবে এবং লাখো মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলবে, যা মোকাবিলায় এটি একটি আগাম ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া। জামিল অবজারভেটরি ক্রুজনেটের প্রধান গবেষক অধ্যাপক আলফাতিহ আলতাহির বলেন, এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি তাপপ্রবাহ থেকে আশ্রয়ের ধারণা প্রথম চালু করছে। অন্যদিকে, নির্বাহী পরিচালক ডেবোরাহ ক্যাম্পবেল এটিকে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে জলবায়ু–সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নের একটি কার্যকর মডেল হিসেবে মন্তব্য করেছেন।