মরক্কোর রাজধানী রাবাতে গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (AFCON) এক নাটকীয় ফাইনালে স্বাগতিক মরক্কোকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে সেনেগাল। তবে এই ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দ ম্লান হতে চলেছে বড় ধরনের শাস্তির খড়্গে। ফাইনাল ম্যাচে রেফারির একটি পেনাল্টি (Penalty) সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মাঠের ভেতরে ও বাইরে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার জের ধরেই এবার সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশনের ওপর কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো।
মাঠ ত্যাগের নির্দেশ ও খেলা স্থগিতের উপক্রম
ম্যাচের একপর্যায়ে রেফারির একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান সেনেগালের ডাগআউট। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, সেনেগালের প্রধান কোচ আলিউ থিয়াও (Aliou Thiaw) রাগের মাথায় তার খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন। কোচের এমন ‘ওয়াকআউট’ (Walk-out) হুমকির কারণে বেশ কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে, যা টুর্নামেন্টের শৃঙ্খলা ও স্পোর্টসম্যানশিপের ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও দীর্ঘ আলোচনার পর সেনেগাল পুনরায় মাঠে ফেরে এবং শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে, কিন্তু ওই মুহূর্তের অপেশাদার আচরণ এখন তাদের বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
গ্যালারিতে সমর্থকদের তাণ্ডব ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষ
মাঠের উত্তজনা শুধু সবুজ ঘাসেই সীমাবদ্ধ ছিল না; রাবাতের প্রিন্স আবদেল্লাহ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতেও সেনেগালিজ সমর্থকরা উগ্র আচরণ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা স্থানীয় পুলিশের সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের ভেতরে দর্শকদের এই নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার বিষয়টি ফিফা (FIFA) ও আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (CAF) অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে।
কেমন হতে পারে সম্ভাব্য শাস্তি?
আফ্রিকা কাপ অব নেশনস এবং ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোড (Disciplinary Code) অনুযায়ী, সেনেগাল দল এবং তাদের ফুটবল ফেডারেশন বড় ধরনের জরিমানার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ফেডারেশনকে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা গুণতে হতে পারে।
তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে অভিযুক্ত কোচ এবং প্রধান খেলোয়াড়দের ৪ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সেনেগাল দল হিসেবে ফিফা বিশ্বকাপে (FIFA World Cup) অংশ নিতে পারবে, তবে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে দলের মূল শক্তির অনেক খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে ছাড়াই তাদের বিশ্বমঞ্চে মাঠে নামতে হতে পারে। এটি সেনেগালের বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
ফিফা ও সিএএফ-এর প্রতিক্রিয়া
ফাইনাল ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো (Gianni Infantino) একটি বিবৃতি প্রদান করেন। তিনি শিরোপা জয়ের জন্য সেনেগালকে অভিনন্দন জানালেও মাঠের বিশৃঙ্খলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "ফুটবলে এমন আচরণের কোনো স্থান নেই।"
অন্যদিকে, আফ্রিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (CAF) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের ভাবমূর্তি রক্ষায় কঠোরতম ‘স্যাংশন’ (Sanction) আরোপ করা হবে।
এখন দেখার বিষয়, সেনেগালের এই গৌরবময় জয়ের বিপরীতে শাস্তির খড়্গ কতটা ভয়াবহ হয় এবং আসন্ন বিশ্বকাপে এর প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হয়।