নাইজেরিয়ার কাদুনা রাজ্যে সম্প্রতি গণ-অপহরণের ঘটনা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। স্থানীয় গ্রামপ্রধান ও ধর্মীয় নেতাদের অভিযোগ অনুযায়ী, গত রোববার কুরমিন ওয়ালি গ্রামের দুটি গির্জায় হামলা চালিয়ে ১৭২ জন পুণ্যার্থীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার বিস্তারিত ও অভিযোগ
নাইজেরিয়ার উত্তরের খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান রেভারেন্ড জোসেফ হায়াব বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, হামলাকারীরা বিপুল সংখ্যায় এসে গির্জার প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয় এবং পুণ্যার্থীদের জোর করে পাশের ঝোপঝাড়ের দিকে নিয়ে যায়। তিনি নিশ্চিত করেন যে, ১৭২ জনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হলেও ৯ জন পালিয়ে আসতে সক্ষম হন, এবং বর্তমানে ১৬৩ জন অপহৃত অবস্থায় রয়েছেন। ইশাকু দানআজুমি নামের স্থানীয় এক গ্রামপ্রধান অভিযোগ করেছেন, কেবল রাজনীতিবিদরাই অপহরণের বিষয়টি অস্বীকার করছেন। তিনি জানান, কুরমিন ওয়ালি গ্রামের তিনটি গির্জা থেকে মোট ১৬৬ জনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
কর্তৃপক্ষের অস্বীকার ও স্থানীয়দের আতঙ্ক
কাদুনা রাজ্য পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা অবশ্য অপহরণের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। রাজ্য পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ রাবিউ স্থানীয় একটি টিভি চ্যানেলে বলেন, এখন পর্যন্ত অপহরণের কোনো প্রমাণ তাঁদের কাছে নেই। রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমিশনার সুলে শাউইবুও ঘটনাটিকে 'সম্পূর্ণ মিথ্যা' বলে অভিহিত করেছেন।
অন্যদিকে, গ্রামপ্রধান ইশাকু দানআজুমি জানান, তাঁর এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বন্দুকধারীদের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এবং অপহরণের ভয়ে চাষাবাদও কমে গেছে। তিনি আরও বলেন, "আগে ১০ থেকে ২০ জন অপহৃত হলে আমরা নিজেরাই মুক্তিপণের টাকা তুলে তাঁদের ছাড়িয়ে আনতাম। কিন্তু এবার অপহৃতের সংখ্যা এত বেশি যে আমাদের আর কিছু করার নেই। তাই আমরা কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছি।"
অপহরণ এখন 'লাভজনক পেশা'
বিশেষজ্ঞদের মতে, নাইজেরিয়ায় অপহরণ এখন একটি 'লাভজনক পেশায়' পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে দেশটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো প্রায় ১৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার মুক্তিপণ আদায় করেছে।
পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিতে জমি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে বিরোধের জেরে জাতিগত ও ধর্মীয় অস্থিরতা লেগেই থাকে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুক্তিপণের জন্য গণ-অপহরণের ঘটনা একটি সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাহীনতা ও দুর্বল শাসনব্যবস্থাকে তুলে ধরছে।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা
নাইজেরিয়ার ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত ডিসেম্বরে উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের (ISIS) সঙ্গে জড়িত সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর হামলা চালানোর অনুমোদন দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।