স্বাধীনতার ঘোষণা ও চূর্ণ হওয়া স্বপ্ন
"স্বাধীনতার সেই ঘণ্টা বেজে উঠেছে" —৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত মারিয়া কোরিনা মাচাদোর (María Corina Machado) এই ঘোষণা মুহূর্তেই চূর্ণ হয়ে যায়। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (Nicolás Maduro) ধরে নিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ঘোষণা করেন, ভেনেজুয়েলার শাসনক্ষমতা গণতান্ত্রিক শক্তির হাতে দেওয়া হবে না; বরং তাঁর প্রশাসনই দেশটি চালাবে। ট্রাম্পের এই ঘোষণায় ভেনেজুয়েলার জনগণের বহুদিনের স্বাধীনতার স্বপ্ন অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে।
মার্কিন হস্তক্ষেপ: গণতন্ত্রকে পাশে সরিয়ে 'শাসন-ধারাবাহিকতা'
কারাকাসে মার্কিন হস্তক্ষেপের প্রায় দুই সপ্তাহ পর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রকে পাশে সরিয়ে রেখে 'শাসন-ধারাবাহিকতা' (Governing Continuity) বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গণরায় উপেক্ষা: প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া এদমুন্দো গোনসালেসের গণরায় ট্রাম্প উপেক্ষা করেছেন। এমনকি নোবেল শান্তি পুরস্কারও ট্রাম্পকে মাচাদোর বৈধতা মানতে রাজি করাতে পারেনি।
ট্রাম্পের স্বার্থ: বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্প মাচাদোকে সমর্থন করেন না, কারণ তিনি ভেনেজুয়েলার জনগণের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী; ট্রাম্পের তেলকেন্দ্রিক (Oil-centric) পরিকল্পনায় নয়।
'পুতুল' সরকার: সিআইএ-এর মূল্যায়নের ভিত্তিতে ট্রাম্প প্রশাসনের মনোযোগ এখন 'স্বল্পমেয়াদি জরুরি বিষয়'-এর দিকে। এই সময়ে মাদুরোর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেস (Delcy Rodríguez) দেশটি শাসন করবেন। তার অবস্থান স্বভাবতই ভঙ্গুর এবং কারাকাস ক্রনিকলস এই পরিস্থিতিকে 'স্থবির উত্তরণ' (Stalled Transition) বলে অভিহিত করেছে।
মাচাদোর কৌশলগত ভুল ও শেষ সুযোগ
মাচাদো ট্রাম্পকে তুষ্ট করতে গিয়ে তার নোবেল শান্তি পুরস্কারও উপহার দেন, যা তোষামোদ দিয়ে মূল সমস্যার সমাধান করে না।
ভুল কৌশল: ওয়াশিংটন পোস্টের মন্তব্য অনুযায়ী, মাচাদো যদি পুরস্কারটি ফিরিয়ে দিতেন, তবে আজ তিনিই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হতেন। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, মাচাদোকে ইচ্ছাকৃতভাবেই জটিলতা তৈরি করা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করা হয়েছে।
শেষ সুযোগ: মাচাদোকে তার সেই কৌশলে আবার ফিরতে হবে, যেটি তাঁকে আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এনে দিয়েছিল—সারা দেশে প্রতিবাদ সংগঠিত করার ক্ষমতা, যা তার হাতে থাকা 'একমাত্র অস্ত্র'। গণতন্ত্রপন্থী শক্তিগুলোর সামনে এখন শেষ সুযোগ—নিজেদের অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গঠনে অর্থবহ ভূমিকা নিশ্চিত করা।