আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) নির্বাচনী এলাকায় বড় ধরনের রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘটেছে। দলীয় শৃঙ্খলা ও ঐক্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী (Independent Candidate) হিসেবে লড়াইয়ের ঘোষণা দেওয়া মো. জহুরুল ইসলাম নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান। তবে তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা নিরসনে তিনি প্রয়োজনে উচ্চ আদালতের (High Court) দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য
সংবাদ সম্মেলনে জহুরুল ইসলাম নিজেকে তৃণমূলের রাজনীতির একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, “আমি দীর্ঘ সময় ধরে এই জনপদে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক কারণে আমি নানা সময় হামলা ও মামলার শিকার হয়েছি। আসন্ন নির্বাচনে আমি দলের কাছে মনোনয়ন চেয়েছিলাম, কিন্তু দল বৃহত্তর স্বার্থে সাবিরা সুলতানাকে মনোনীত করেছে। আমি একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে দলের সেই সিদ্ধান্তের ওপর পূর্ণ আস্থা ও শ্রদ্ধা রেখে আমার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, নির্বাচনী ময়দান থেকে সরে দাঁড়ালেও তিনি ও তার বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে একযোগে মাঠে কাজ করবেন।
রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকা ও আইনি জটিলতা
সংবাদ সম্মেলনে জহুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তিনি যথাসময়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের (Withdrawal of Nomination) আবেদন নিয়ে উপজেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, “আমি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দিয়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সেখানে সিল ও স্বাক্ষরও করেছিলেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পরক্ষণেই তিনি সেই স্বাক্ষর কেটে দেন এবং আবেদনটি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। এটি নির্বাচনী আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।”
জহুরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তিনি জেলা রিটার্নিং অফিসারকে (District Returning Officer) অবহিত করলেও কোনো প্রতিকার পাননি। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “আমি কোনোভাবেই এই নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক নই। ব্যালট পেপারে যাতে আমার নাম ও প্রতীক অন্তর্ভুক্ত না করা হয়, তা নিশ্চিত করতে আমি প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের শরণাপন্ন হব।”
তৃণমূলের সমর্থন ও সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতি
এদিন সংবাদ সম্মেলনে জহুরুল ইসলামের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু এবং চৌগাছা উপজেলা ও পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ। জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতি জহুরুল ইসলামের এই ত্যাগের রাজনৈতিক গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যশোর-২ আসনে জহুরুল ইসলামের মতো একজন প্রভাবশালী নেতার সরে দাঁড়ানো এবং দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ঘোষণা বিএনপির অবস্থানকে বেশ মজবুত করবে। তবে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) যদি শেষ পর্যন্ত তার প্রত্যাহারের আবেদন গ্রহণ না করে, তবে তা আইনি লড়াইয়ের দিকে মোড় নিতে পারে, যা এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে জহুরুল ইসলাম পুনরায় আশ্বস্ত করেন যে, তিনি সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে আগের মতোই নিয়োজিত রাখবেন এবং আগামী দিনে দলের হাতকে শক্তিশালী করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।