বৈঠকের সারসংক্ষেপ ও সময়সীমা গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রেলভবনে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ওই জরুরি বৈঠকে এলপিজি খাতের ১২টি কোম্পানি অংশ নেয়। সভায় জ্বালানি বিভাগের সচিব, বিইআরসির চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা উপদেষ্টাকে জানান, আন্তর্জাতিক বিরূপ পরিস্থিতির কারণে এলপিজি আমদানিতে বাধা সৃষ্টি হয়েছিল, তবে আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রতিশ্রুতি, রমজানের আগেই এই সংকট দূর হবে।
আমদানি লক্ষ্যমাত্রা ও প্রধান অপারেটর বৈঠকে জ্বালানি উপদেষ্টার কাছে এলপিজি আমদানির মাসভিত্তিক তথ্য পেশ করা হয়। সেই হিসাব অনুযায়ী, চলতি জানুয়ারি মাসে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬০০ টন এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১০০ টন এলপিজি আমদানি করা হবে। আমদানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণের এই দৌড়ে সবচেয়ে বেশি আমদানি করবে মেঘনা ফ্রেস এলপিজি লিমিটেড; তারা চলতি মাস ও ফেব্রুয়ারিতে ৩০ হাজার টন করে এলপিজি আমদানি করবে। এরপরেই রয়েছে ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড, যারা চলতি ও আগামী মাসে ২৫ হাজার টন করে আমদানি করবে। বিএম এনার্জি (বিডি) লিমিটেড, পেট্রোম্যাক্সসহ মোট ১২টি কোম্পানি এই আমদানির প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে।
উপদেষ্টার নির্দেশনা ও সরকারের সহায়তা সভায় জ্বালানি উপদেষ্টা জাতীয় নির্বাচনের আগে এবং রমজান মাসে যাতে এলপিজির কোনো ঘাটতি না থাকে, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর জন্য নির্দেশ দেন। তিনি অপারেটরদের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের আমদানি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উপর জোর দেন। উপদেষ্টা আশ্বাস দেন যে, লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করতে সরকারের পক্ষ থেকেও সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
অপারেটরদের বক্তব্য পরিকল্পিতভাবে এলপিজির মূল্য বাড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অপারেটররা। তাঁরা উপদেষ্টাকে জানান, আন্তর্জাতিক বিরূপ পরিস্থিতির কারণেই আমদানি বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, চলতি মাসের নির্ধারিত আমদানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে বাজারে এলপিজি সংকট অনেকটাই কমে আসবে।