বুধবার বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন ধানের শীষ ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন।
আগারগাঁওস্থ নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢাকা-১৩ ও ১৫ আসনের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়।
পরে বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, ‘আচরণবিধি মেনেই এখানে এসেছি।
দুঃখজনক হলো একটি বিশেষ দল আচরণবিধি মানেনি। আমরা পাঁচজন এসেছি, তারা (জামায়াতের প্রতিনিধি) ১০ জনের বেশি লোক এখানে নিয়ে এসেছে। ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের নারী কর্মীরা বাসায় বাসায় গিয়ে ভোটারদের আইডি কার্ড ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে।
এই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে একটি দল নারীদের বাসায় বাসায় পাঠিয়ে দেয়।
ভিডিওতে দেখা গেছে নারী কর্মীরা এনআইডি আর বিকাশ নাম্বার চাইছিল। এগুলো ব্যক্তিগত তথ্য। বাইরের কাউকে হস্তান্তরযোগ্য নয়। নারী কর্মীদের এসব জিজ্ঞেস করলে তারা ছুটোছুটি শুরু করেন। পরে তাদের নেতারা ২০-২৫ জন নিয়ে এসে প্রশ্নকর্তাকে নাজেহাল করে। ’
তিনি দাবি করেন, পীরেরবাগ, শেওড়াপাড়ায় একই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় মানুষরা জিজ্ঞেস করলে জামায়াতের সংঘবদ্ধ কর্মীরা বিএনপির দুইজন কর্মীকে মারধর করে। সেখানে পরে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে পুলিশ, সেনাবাহিনীতে ফোন দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনুরোধ করি।
ইসিকে অনুরোধ সবাই যেন নির্ভয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে। ’ জামায়াতের আমিরের পক্ষে রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রতীক বরাদ্দ নেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ একটি প্রতিনিধি দল।
পরে তিনি বলেন, ‘আশা করছি আগামী নির্বাচনে প্রার্থীরা সবাই অংশ নেবেন, গণভোট ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী হবে। সুন্দর, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যাব। যদিও আমাদের উপর সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। গতকালও করেছে। আশা করব এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে। সন্ত্রাসমুক্ত নির্বাচন আশা করি। যেহেতু গত তিনটি নির্বাচন হয়নি তাই ইসিকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। ’
নারীদের দিয়ে আগাম প্রচারণার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘পুরোপুরি অসত্য তথ্য। তফসিল ঘোষণার পর সব প্রচারণা সামগ্রী আমরা অপসারণ করেছি, ইসির অপেক্ষা করিনি। অপপ্রচার চালিয়ে ১০ দলীয় ঐক্য বিনষ্টের চেষ্টা চালাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষপাতমূলক আচরণ হচ্ছে। ইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। ’
এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের ভাষ্য, একটি বিশেষ দল থেকে আমাদের নারী ভোটারদের উপর সন্ত্রাসী লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশা করছি দ্বিতীয়বার যেন এমনটা না ঘটে।