ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ডামাডোল শুরু হলো উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে জেলার চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ২৯ জন প্রার্থীর মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে এই ‘Symbol Allotment’ প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমেই প্রার্থীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে এবং শুরু হয় ভোটের মাঠের আসল লড়াই।
হেভিওয়েট প্রার্থীদের হাতে পছন্দের প্রতীক
লক্ষ্মীপুরের ৪টি আসনেই দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর পাল্টে গেছে জেলা শহরসহ তৃণমূলের চিত্র।
লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ): এই আসনে বিএনপির হেভিওয়েট ‘Candidate’ শাহাদাত হোসেন সেলিম পেয়েছেন তাঁর দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’। ১০ দলীয় জোটের শরীক এনসিপির মাহবুব আলম পেয়েছেন ‘শাপলা কলি’ এবং ইসলামী আন্দোলনের জাকির হোসেন পাটোয়ারীর হাতে উঠেছে ‘হাতপাখা’।
লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ): এখানে বিএনপির দীর্ঘদিনের কাণ্ডারি আবুল খাঁয়ের ভূঁইয়া লড়বেন ‘ধানের শীষ’ নিয়ে। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ১০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর রুহুল আমিন ভূঁইয়া বরাদ্দ পেয়েছেন ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক।
লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর): জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বরাবরের মতোই ‘ধানের শীষ’ প্রতীক পেয়েছেন। তাঁর বিপরীতে ১০ দলীয় জোটের হয়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে লড়বেন জামায়াতের ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের মো. ইব্রাহীম পেয়েছেন ‘হাতপাখা’।
লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর): এই আসনে লড়াই হবে বহুমুখী। বিএনপির আশ্রাফ উদ্দিন নিজান ‘ধানের শীষ’, জামায়াতের এ আর হাফিজ উল্লাহ ‘দাঁড়িপাল্লা’, জেএসডির তানিয়া রব ‘তারা’ এবং ইসলামী আন্দোলনের খালেদ সাইফুল্লাহ ‘হাতপাখা’ প্রতীক পেয়েছেন।
আচরণবিধি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি
প্রতীক বরাদ্দের সময় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান সকল প্রার্থী ও তাঁদের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে ‘Election Code of Conduct’ বা নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রতীক পাওয়ার পর থেকে প্রচারণার ক্ষেত্রে কোনোভাবেই শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা যাবে না। প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ‘Fair Election’ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
মাঠে নামছে রাজনৈতিক দলগুলো
প্রতীক পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই লক্ষ্মীপুর জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। কর্মী-সমর্থকদের মাঝে বইছে উন্মাদনা। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে পোস্টার, ব্যানার এবং গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটাদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছাবেন। নির্বাচন কমিশন (EC) ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে এই ভাগ্যনির্ধারণী ভোটগ্রহণ।
এদিন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুল রশিদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। লক্ষ্মীপুরের এই ৪টি আসনেই এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।