• প্রযুক্তি
  • প্রযুক্তি বিশ্বে ‘চ্যাটজিপিটি’ বিপ্লব: ২০ বিলিয়ন ডলার আয়ের রেকর্ড মাইলফলকে ওপেনএআই

প্রযুক্তি বিশ্বে ‘চ্যাটজিপিটি’ বিপ্লব: ২০ বিলিয়ন ডলার আয়ের রেকর্ড মাইলফলকে ওপেনএআই

প্রযুক্তি ১ মিনিট পড়া
প্রযুক্তি বিশ্বে ‘চ্যাটজিপিটি’ বিপ্লব: ২০ বিলিয়ন ডলার আয়ের রেকর্ড মাইলফলকে ওপেনএআই

এক বছরে রাজস্ব বেড়েছে ৩০০ শতাংশ; কম্পিউটিং সক্ষমতা ও নতুন হার্ডওয়্যার উদ্ভাবনের পথে অদম্য এআই জায়ান্টটি।

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা Artificial Intelligence (AI)-এর জয়জয়কারের মধ্যে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই (OpenAI)। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক রাজস্ব বা Revenue অভাবনীয়ভাবে ২০০০ কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। প্রযুক্তি খাতের ইতিহাসে কোনো স্টার্টআপের এমন উল্কার গতিতে উত্থান বিরল বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

রাজস্বের অবিশ্বাস্য উল্লম্ফন

গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) এক আনুষ্ঠানিক ব্লগ পোস্টে ওপেনএআই-এর চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (CFO) সারাহ ফ্রায়ার এই চমকপ্রদ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির আয় ছিল মাত্র ৬০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তাদের আয় বেড়েছে তিন গুণেরও বেশি। মূলত কম্পিউটিং সক্ষমতা বা Processing Power-এর ব্যাপক উন্নয়নের ফলে এই বিশাল অংকের অর্থ ঘরে তুলেছে মাইক্রোসফট সমর্থিত (Microsoft-backed) এই প্রতিষ্ঠানটি।

কম্পিউটিং সক্ষমতা ও ব্যবহারকারীর জোয়ার

ওপেনএআই-এর এই সাফল্যের মূলে রয়েছে তাদের ডেটা সেন্টারের শক্তিশালী পরিকাঠামো। সারাহ ফ্রায়ার জানান, ২০২৪ সালে তাদের কম্পিউটিং সক্ষমতা ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ছয় গিগাওয়াট, যা ২০২৫ সালে তিন গুণেরও বেশি বেড়ে এক দশমিক নয় গিগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। এই সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে চ্যাটজিপিটি আরও দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে সেবা দিতে পারছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সাপ্তাহিক ও দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর (Weekly Active Users) সংখ্যা প্রতিনিয়ত নতুন রেকর্ড গড়ছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে আরও সুসংহত করেছে।

বিজ্ঞাপন ও আয়ের নতুন উৎস

বিশাল অংকের কম্পিউটিং খরচ সামাল দিতে এবং মুনাফা বাড়ানোর লক্ষ্যে এবার নতুন ব্যবসায়িক কৌশলে হাঁটছে ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কিছু ব্যবহারকারীর জন্য চ্যাটজিপিটিতে বিজ্ঞাপন (Advertising) প্রদর্শনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে। মূলত লেখা, ছবি, কণ্ঠস্বর এবং কোডিংয়ের গণ্ডি পেরিয়ে ওপেনএআই এখন ‘এআই এজেন্ট’ (AI Agent) এবং ‘ওয়ার্কফ্লো অটোমেশন’ (Workflow Automation) প্রযুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এই প্রযুক্তিগুলো মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই জটিল সব দাপ্তরিক কাজ একা সম্পাদন করতে সক্ষম হবে।

সফটওয়্যার থেকে হার্ডওয়্যারে রূপান্তর

ওপেনএআই এখন আর কেবল একটি সফটওয়্যার কোম্পানি হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছে না। কোম্পানির গ্লোবাল পলিসি প্রধান ক্রিস লেহ্যান ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে তারা নিজস্ব ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা হার্ডওয়্যার (Hardware) বাজারে আনার পরিকল্পনা করছেন। ২০২৬ সালের জন্য তাদের মূল লক্ষ্য হবে হেলথকেয়ার (Healthcare), বিজ্ঞান এবং বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাস্তবমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে তারা একটি পূর্ণাঙ্গ ‘টেক জায়ান্ট’ (Tech Giant) হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

কৌশলগত বিনিয়োগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক ঝুঁকি এড়াতে ওপেনএআই তাদের ব্যালেন্স শিট (Balance Sheet) ‘হালকা’ রাখার কৌশল বা ‘Asset-light’ মডেল গ্রহণ করেছে। সারাহ ফ্রায়ারের মতে, সবকিছুর মালিকানা নিজের হাতে রাখার চেয়ে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় হার্ডওয়্যার সরবরাহকারী ও অংশীদারদের সঙ্গে নমনীয় চুক্তির মাধ্যমে কাজ করাকেই তারা প্রাধান্য দিচ্ছেন। এই কৌশলের ফলে কোম্পানি দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে এবং বড় কোনো আর্থিক চাপ ছাড়াই উদ্ভাবনী কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।

সব মিলিয়ে, ২০ বিলিয়ন ডলারের এই মাইলফলক কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান আধিপত্যের এক অকাট্য দলিল। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ওপেনএআই-এর এই অগ্রযাত্রা অদূর ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান (Job Creation) এবং বৈশ্বিক উৎপাদনশীলতায় আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

Tags: artificial intelligence tech giant chatgpt future tech openai digital economy ai revenue sarah friar microsoft computing power