পলিসি নির্ভর রাজনীতির ওপর গুরুত্বারোপ
মতবিনিময়কালে তারেক রহমান রাজনীতিকে আরও বেশি পলিসি-নির্ভর করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্বের মধ্যে পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ির পরিবর্তে উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানে কার কী নীতি থাকবে এবং তা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সেসব বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা ও বিতর্ক হওয়া উচিত। তাঁর মতে, তবেই দেশ দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবে।
উপস্থিত ছিলেন যারা
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের নেতৃত্বে ডিআরইউ’র কার্যনির্বাহী কমিটির নেতারা এই সাক্ষাতে অংশ নেন। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি সালেহ শিবলী, সিনিয়র সাংবাদিক ও আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, ডিআরইউর সহ-সভাপতি মেহদী আজাদ মাসুম, যুগ্ম সম্পাদক মো. জাফর ইকবাল, অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজান চৌধুরী, তথ্য প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া, কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আকতার হোসেন, আলী আজম, মাহফুজ সাদি, আল-আমিন আজাদ, সুমন চৌধুরী ও মো: মাজাহারুল ইসলাম।
বাসযোগ্য ঢাকা ও কৃষি উন্নয়ন পরিকল্পনা
আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির ভাবনা তুলে ধরে তারেক রহমান একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা জানান। ঢাকাকে একটি বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে যানজটসহ সব নাগরিক সমস্যার সমাধানে দেশি-বিদেশি পেশাদার বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে বিএনপি। তিনি ঢাকাকে চাপমুক্ত করতে চারপাশে স্যাটেলাইট সিটি গড়ে তোলা এবং সেসব সিটির সঙ্গে ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে ট্রেন যোগাযোগের ব্যবস্থার করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া, বুড়িগঙ্গা নদীকে লন্ডনের টেমস নদীর আদলে গড়ে তোলা এবং পলিথিন উত্তোলন ও প্রায় দুই ফিট খননের মাধ্যমে নদীকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে কৃষির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটিয়ে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করবে বিএনপি। পাশাপাশি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি উৎপাদন এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডসহ বিভিন্ন ভবিষ্যৎ রূপরেখার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
গণমাধ্যম ও নির্বাচন প্রসঙ্গে
তারেক রহমান বাংলাদেশকে একটি মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে সকল নাগরিকের যথাযোগ্য মর্যাদা নিশ্চিত করার কথা বলেন। স্বাধীন গণমাধ্যম প্রসঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে গণমাধ্যম পুরো স্বাধীনতা ভোগ করবে এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কাজ করবে সরকার।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছু দলের সদস্যদের দ্বারা গ্রামের নারীদের কাছ থেকে বিকাশ নাম্বার সংগ্রহের বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, “আমরা চাই একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে। জনগণ যাকে ভোট দেবে সে ক্ষমতায় আসবে। আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই।”
ডিআরইউ’র নিরপেক্ষতার প্রশংসা
ডিআরইউ’র নিরপেক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করে তারেক রহমান বলেন, সাংবাদিকরা কোনো দলকে সমর্থন করলেও কর্মক্ষেত্রে এর প্রতিফলন না ঘটানোই উত্তম। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সময়ে দেশে গণতন্ত্রের অভাব থাকলেও ডিআরইউ প্রতিবছর ৩০ নভেম্বর নির্বাচন করে, যা প্রশংসার দাবিদার। তিনি ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান।
সাক্ষাৎ শেষে ডিআরইউ’র পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য পারিবারিক মিলন মেলা অনুষ্ঠানে সপরিবারে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ সময় সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তার হাতে শুভেচ্ছা স্মারক ও প্রকাশনা সামগ্রী তুলে দেন।