বিশ্ব রাজনীতি ও ক্রীড়াঙ্গন কি এবার মুখোমুখি সংঘাতে? উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড (Greenland) দখল নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা এখন বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ডেনমার্কের এই অঞ্চলটি দখলের প্রচেষ্টায় জার্মানি-সহ ইউরোপের আটটি দেশ বিরোধিতা করায় চটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে উচ্চ হারে শুল্ক (Tariff) আরোপের হুমকি দিয়েছেন তিনি। আর এই ‘শুল্ক যুদ্ধের’ মোক্ষম জবাব দিতে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ (FIFA World Cup) বয়কটের ডাক উঠেছে জার্মানিতে।
গ্রিনল্যান্ড ইস্যু ও ট্রাম্পের শুল্ক হুঁশিয়ারি
বেশ কিছুদিন ধরেই ডেনমার্কের শাসনাধীন গ্রিনল্যান্ড ভূখণ্ডটি নিজেদের দখলে নিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কৌশলগত ও খনিজ সম্পদের গুরুত্ব বিবেচনায় এই দ্বীপটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তবে ডেনমার্ক এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জার্মানি-সহ ইউরোপের আটটি রাষ্ট্র ডেনমার্কের এই সার্বভৌম অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
ইউরোপীয় দেশগুলোর এই সম্মিলিত বিরোধিতায় ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ওই দেশগুলো থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য আমদানির ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করা হবে। হোয়াইট হাউসের এই কঠোর অবস্থানের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি বড় ধরনের বাণিজ্যযুদ্ধ (Trade War) শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জার্মানিতে বয়কটের সুর ও জনমত
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ‘পেশিশক্তি’ প্রদর্শনের বিরুদ্ধে এবার সরব হয়েছেন জার্মানির রাজনীতিকরা। তাঁদের দাবি, যদি ট্রাম্প তাঁর শুল্ক আরোপের হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তবে এর পাল্টা জবাব হিসেবে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া জার্মানির উচিত হবে না।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎসের দল সিডিইউ-এর প্রভাবশালী সংসদ সদস্য রোদেরিখ কিসেভেটার সরাসরি জানিয়েছেন, ট্রাম্প যদি ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেন, তবে ওই পরিস্থিতিতে বিশ্বমঞ্চে ফুটবল খেলতে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। শুধু রাজনীতিকরাই নন, জনমতও এই বয়কটের পক্ষে বইতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, জার্মানির ৪৭ শতাংশ নাগরিকই ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের পক্ষে মত দিয়েছেন।
সিদ্ধান্ত কি রাজনীতিকদের হাতে?
ফুটবল বয়কটের এই রাজনৈতিক চাপ থাকলেও জার্মানি সরকার এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে নারাজ। বার্লিনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া বা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি জার্মান ফুটবল ফেডারেশন (DFB) এবং বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার (FIFA) এখতিয়ারভুক্ত। তবে ভূ-রাজনীতি (Geopolitics) যে ফুটবলের মাঠেও উত্তাপ ছড়াচ্ছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
ব্যতিক্রমী ফ্রান্স: বয়কটের পথে নয় প্যারিস
ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির আওতায় থাকা আটটি দেশের মধ্যে ফ্রান্স অন্যতম হলেও তারা অবশ্য বয়কটের পথে হাঁটতে রাজি নয়। ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমানে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ বয়কট করার কোনো পরিকল্পনা তাঁদের নেই। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে আমরা বড় ও বহু-প্রত্যাশিত এই প্রতিযোগিতা বয়কট করার কথা ভাবছি না। ভবিষ্যতে কী হবে তা নিয়ে আগাম কোনো অনুমান করা ঠিক হবে না।”
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সিংহভাগ ম্যাচ আয়োজিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। ট্রাম্পের এমন কঠোর কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক অবস্থান যদি শেষ পর্যন্ত জার্মানি বা অন্য কোনো ইউরোপীয় পরাশক্তিকে বিশ্বকাপ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তবে তা ফিফার (FIFA) ইতিহাসে এক নজিরবিহীন সংকটের জন্ম দেবে।