রাঙ্গামাটি জেলায় সৌদিয়া পরিবহন ও স্থানীয় বাস মালিক সমিতির মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধ এবার চরম রূপ নিয়েছে। ‘টোকেন ফি’ (Token Fee) সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের দ্বন্দ্বের জেরে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল থেকে রাঙ্গামাটিতে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু করেছে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম মোটর মালিক সমিতি। আগাম কোনো ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ শুরু হওয়া এই ধর্মঘটের কারণে পার্বত্য জেলার সঙ্গে বাইরের সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজারো যাত্রী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
দ্বন্দ্বের নেপথ্যে ‘টোকেন ফি’ ও আধিপত্য
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, এই সংকটের মূলে রয়েছে রাঙ্গামাটি-ঢাকা রুটে সৌদিয়া পরিবহনের নতুন দুটি বাস সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত। অভিযোগ উঠেছে, সৌদিয়া পরিবহন তাদের এই রুটে যাত্রী পরিবহন শুরু করলেও স্থানীয় মালিক সমিতিকে নির্ধারিত ‘টোকেন ফি’ প্রদান করছিল না। এই আর্থিক টানাপোড়েনের জেরে বুধবার (২১ জানুয়ারি) মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সৌদিয়া পরিবহনের টিকিট কাউন্টারটি জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কাউন্টারটি পুনরায় খুলে দেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে এবং নিজেদের দাবি আদায়ে কোনো প্রকার পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বৃহস্পতিবার ভোর থেকে সব ধরণের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় মালিক সমিতি।
সিন্ডিকেটের কবলে যাত্রী অধিকার
রাঙ্গামাটি বাস মালিক সমিতি মূলত চট্টগ্রামের রাউজান থেকে নিয়ন্ত্রিত হয় বলে জানা গেছে। মালিক সমিতির এই হঠকারী সিদ্ধান্তে রাঙ্গামাটি থেকে চট্টগ্রাম ও ঢাকা অভিমুখী সব ধরণের গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। সৌদিয়া পরিবহন কর্তৃপক্ষের দাবি, ঢাকা থেকে আসা তাদের একটি বিলাসবহুল এসি বাস (AC Bus) সকালে রাউজানে আটকে রেখেছে মালিক সমিতির কর্মীরা।
বাস চলাচল বন্ধ থাকায় রেলস্টেশন বা গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে অনেক যাত্রী বাস টার্মিনালগুলোতে ভিড় করছেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতে চাওয়া সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন চরমে। যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, পরিবহন মালিকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষকে কেন ‘জিম্মি’ করা হবে?
সমাধানের আশায় প্রশাসন
পরিবহন ধর্মঘট নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন জানান, ধর্মঘটের কারণে জনভোগান্তির বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অপ্রত্যাশিত। তিনি বলেন, “মালিক সমিতির সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করছি। কীভাবে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করে বাস চলাচল স্বাভাবিক করা যায়, তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আশা করছি শিগগিরই একটি সম্মানজনক সমাধান আসবে।”
তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মালিক সমিতি তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। কোনো আলোচনা বা সমঝোতা ছাড়া এই ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হবে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পর্যটন নগরী রাঙ্গামাটির যাতায়াত ব্যবস্থা এভাবে অচল হয়ে পড়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।