নির্ধারিত সময়ে সম্পদের বিবরণী (Asset Statement) দাখিল না করার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও প্রবীণ সাংবাদিক মো. নাঈমুল ইসলাম খান এবং তার স্ত্রী সাংবাদিক নাসিমা খান মন্টির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) কমিশন তাদের বিরুদ্ধে আলাদা দুটি মামলায় চার্জশিট (Charge Sheet) দাখিলের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।
দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন গণমাধ্যমকে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করে জানান, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের জন্য এই চার্জশিট অনুমোদিত হয়েছে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও তদন্তের বিবর্তন
২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর দুদকের সহকারী পরিচালক বিলকিস আক্তার বাদী হয়ে এই দম্পতির বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার ন্যস্ত করা হয় সহকারী পরিচালক এমরান হোসেনের ওপর। দীর্ঘ তদন্তের পর সংস্থাটি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, অভিযুক্তরা আইনের নির্ধারিত নির্দেশনা পালনে ব্যর্থ হয়েছেন।
তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান এবং তার স্ত্রী নাসিমা খান মন্টির বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিকানা অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পায় দুদক। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৭ জুলাই ‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪’ এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী তাদের সম্পদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণী দাখিলের আদেশ দেয় কমিশন।
আইনি বাধ্যবাধকতা ও অবহেলা
দুদকের বিধিমালা অনুযায়ী, সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ পাওয়ার পর ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তা কমিশনে জমা দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে নির্ধারিত সেই সময়সীমা পার হয়ে গেলেও মো. নাঈমুল ইসলাম খান কিংবা নাসিমা খান মন্টি কেউই তাদের সম্পদের হিসাব জমা দেননি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা কেবল নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হননি, বরং সময় বৃদ্ধির জন্য যথাযথ নিয়মে কোনো আবেদনও করেননি। আইনের দৃষ্টিতে এটি ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলা’ হিসেবে গণ্য হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় দুদক আইন ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অকাট্য প্রমাণ পাওয়ায় আজ চার্জশিট দাখিলের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
প্রভাবশালী সাংবাদিক ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদে এই মামলাটি নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুদকের এই পদক্ষেপ ‘Accountability’ বা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি বড় উদাহরণ হতে পারে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত এই চার্জশিটটি দ্রুতই সংশ্লিষ্ট আদালতে দাখিল করা হবে এবং এরপরই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে।