ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের সুযোগ ‘দেখছেন না’ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
এর ব্যাখায় তিনি বলেন, অতীতের জাতীয় নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একজন অস্ত্রধারী পুলিশ নিয়োজিত থাকতেন। এবার কমপক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাঁচজন অস্ত্রধারী সদস্য থাকবেন।
বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে এক সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
সিআইডির আলাদা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও একই তথ্য দেওয়া হয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এবারই প্রথমবারের মতো প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে পাঁচজন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।
“এর মধ্যে কমপক্ষে দুইজন অস্ত্রধারী পুলিশ ও তিনজন অস্ত্রধারী আনসার। তবে গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রসমূহে তিনজন অস্ত্রধারী পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছয়জন অস্ত্রধারী সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। ফলে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের সুযোগ নেই।”
এ ছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে লাঠিসহ ১০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে, যার মধ্যে ছয়জন পুরুষ ও চারজন নারী, বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারের নির্বাচন সবচেয়ে অবাধ, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন হচ্ছে, যা রোল মডেল হয়ে থাকবে।”
নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শতভাগ সততা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার আহবান জানান তিনি।
এবারের নির্বাচনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “প্রথমবারের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও বডি-ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি স্থাপন, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াডের ব্যবহার হবে।
“তাছাড়া এবার প্রবাসী ভোটার, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।”
এবারের সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রেকর্ড সংখ্যক প্রায় ৯ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন, বলেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনসিসি, গার্লস গাইড ও স্কাউট সদস্যরাও সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বলেও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন।
তিনি বলেন, “নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে দুই পর্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রথম পর্বে চলমান যারা মোতায়েন রয়েছেন, তারা বলবৎ থাকবে।
“দ্বিতীয় পর্বে ভোটকেন্দ্রিক মোতায়েন, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট সাতদিন দায়িত্ব পালন করবেন।”
নির্বাচনের আগে অনলাইনে নানান গুজব ও মিথ্যাচার প্রতিরোধে সিআইডিকে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ।
সেখানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।
আমন্ত্রিত অতিথিরা পরে কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য এসআই থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদা পর্যন্ত কর্মকর্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।