দোচালা টিনের ঘরে কাঠের তৈরি চৌকির ওপর একটা পাটি। আরেকটি ছেঁড়া কাঁথা গায়ে জড়িয়ে এই তীব্র শীতে বৃদ্ধা অসুস্থ মাকে নিয়ে রাত কাটে হোসনেয়ার (২৮)। টানা কয়েকদিনের তীব্র শীতে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেননি হোসনেয়ারা ও তাঁর মা। এপেক্স ক্লাব অব নোয়াখালীর সদস্যদের কাছ থেকে কম্বল পেয়ে আবেগে কেঁদে ফেলেন হোসনেয়ারা। তিনি বলেন, ‘শীত সইয়ে পারি না, না খাই ও থাইকতাম হারি(পারি)।’
আন্তর্জাতিক সেবা সংগঠন এপেক্স ক্লাব অব নোয়াখালীর উদ্যোগে সুবর্ণচর উপজেলায় চরমজিদে সমাজে কম ভাগ্যবান শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। ক্লাব সদস্যদের আর্থিক অনুদানের প্রথম ধাপে ১১০ জন কম ভাগ্যবানের হাতে কম্বল তুলে দেয়া হয়। এসময় অবহেলিত শিশুদের মাঝে সুখাদ্য দেয়া হয়।
শুক্রবার বিকেলের দিকে সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের চরমজিদ গ্রামের সেলিম বাজার আশ্রয়ণ এলাকা এইসব কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
কম্বল পেয়ে চরমজিদ আশ্রয়ণের হীরা বালা বলেন, ‘এবার এত শীত গ্যালো, রাইতে ঘুমাইতে পারি নাই। কেউ একটা কম্বল দেয়নি। আমনেরাই কম্বল দিলেন। আল্লাহর কাছে আমনেগো লাই দোয়া করুম।’
ক্লাব সভাপতি এপেক্সিয়ান মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল বলেন, এপেক্স ক্লাব অব নোয়াখালী মাসে দুইটি সেবা করে থাকেন। সমাজে কম ভাগ্যবানদের পাশে দাঁড়ানোই ক্লাবের সেবার মূল লক্ষ্য।
এপেক্স ক্লাবের ট্রেজারার এপে.হুমায়ুন কবির তত্ত্বাবধানে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্লাব সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল, অতীত জেলা গর্ভণর ও অতীত সভাপতি মোনাব্বর হোসেন সেলিম, অতীত এপেক্সিয়ান আলাউদ্দিন সোহেল, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এপে.দিবাশ্রী ভট্ট, এপে.মোশাররফ হোসেন মামুন, সার্জেন্ট এ্যাট আর্মস রাকিব হোসেন শুভ, এপে. নাজিম উদ্দীন, সুবর্ণচর প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন চৌধুরী, সেক্রেটারি আবদুল বারী বাবলু প্রমূখ।