শুক্রবার বিকালে দিনাজপুর গোড়-এ শহীদ ময়দানে ১০ দলীয় ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত সব শিশু এবং ৬৫ বছর বয়সী সব মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে। বাংলাদেশে এমন কোনও জেলা থাকবে না, যেখানে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হবে না। সব জেলায় মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে, সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে।’
নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকারের প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা কারও পক্ষ নেবেন না।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘এমন বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই যেখানে একটি শিশু জন্মগ্রহণের পরপরই তার তিনটি অধিকার সঙ্গে সঙ্গে পেয়ে যাবে। একটি বাঁচার অধিকার, দ্বিতীয়টি সুস্বাস্থ্যের অধিকার এবং তৃতীয় শিক্ষার অধিকার। সেই থেকে শুরু, সে শিক্ষিত হবে, দক্ষ হবে এবং সে দেশে কিংবা বিদেশে এই দেশের জন্য কাজ করবে। গর্বের সঙ্গে বলবে আমি একজন বাংলাদেশি। এই তিন উপাদানে বড় হলে চাঁদাবাজ হবে না, সে মাদকসেবী হবে না, সন্ত্রাসী হবে না। তার জন্য তার মা-বাবা সম্মানিত হবে। আমরা সেই বাংলাদেশ গড়তে চাই। যেখানে মা-বোনেরা সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনানি থাকবে না।
‘ক্ষমতায় গেলে আম, লিচুর ফুড প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলা হবে। ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। ফসল এবং সবজির সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা হবে।’
তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজরা অনেক জ্বালিয়েছে, চাঁদা নিয়ে মানুষদের দিশেহারা করে তুলেছে। রাস্তার পাশে ফুটপাতের ভ্যান থেকেও চাঁদা নেয়। লজ্জা করে না? পেটের ক্ষুধা নিবারণ করতে নিজের তৈরি জিনিস বিক্রি করছে, বাচ্চাদের মুখে খাবার তুলে দেবে। তুমি এসে ডাকাতের মতো সেখানে অংশ বসাও। লজ্জিত আমরা, লজ্জিত বাংলাদেশ। চাঁদা আমরা নেই না এবং কোনও চাঁদাবাজকে আমরা টাকা দিতে যাবো না।
‘পাকিস্তান আমলে যে ১৯টি বড় জেলা ছিল তার মধ্যে দিনাজপুর ছিল গুরুত্বপূর্ণ জেলা। দিনাজপুরকে বলা হয় দেশের শস্যভান্ডার। বৃহত্তর জেলা হিসেবে দিনাজপুরকে সিটি করপোরেশন করা হয়নি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যদি দেশ সেবার সুযোগ পায়, সরকার গঠনের সুযোগ পায়– আমরা আপনাদের আশ্বস্ত করছি, দিনাজপুর শহরকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তরিত করা হবে। গ্যাসের উৎস নিয়ে বৈজ্ঞানিক জরিপ চালানো হয়নি। হতে পারে এখানেই গ্যাস আছে, যেহেতু কয়লার সন্ধান পাওয়া গেছে। কয়লার সঙ্গে গ্যাসের একটা সম্পর্ক আছে। হয়তো একদিন সেই সম্পদ বের হয়ে আসবে। বাংলাদেশের অন্যান্য জায়গায় যদি গ্যাসের অংশীদারত্ব থাকে, দিনাজপুরেও আসবে।’
পরে জামায়াত আমির দিনাজপুরের ৬টি আসনে ১০ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং গণভোটে হ্যাঁ’র পক্ষে ভোট চান।
জামায়াতে ইসলামী দিনাজপুর জেলা শাখার আমির অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে জনসভায় বক্তব্য দেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জামায়াতে ইসলামীর শরিক দল এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ডা. আব্দুল আহাদ প্রমুখ।