তিনি আরও বলেছেন, “আমাদের একটি আর্মাডা সেখানে যাচ্ছে, হয়তো আমাদের এটি ব্যবহার করতে হবে না।”
মার্কিন কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং বেশ কয়েকটি গাইডেড-মিসাইল ধ্বংসকারী জাহাজ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে। এ ছাড়া ওই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলা ঠেকাতে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।
ইরানের দিকে মার্কিন নৌবহর বা ‘আর্মাডা’ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি এই সামরিক শক্তি ব্যবহারের প্রয়োজন পড়বে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরুর বিষয়ে তেহরানকে নতুন করে সতর্ক করেছেন তিনি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমাদের অনেকগুলো জাহাজ ওই অভিমুখে (ইরান) যাচ্ছে। আমি কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা দেখতে চাই না, তবে আমরা তাদের ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছি।
গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর বর্তমান উত্তজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে মার্কিন বাহিনীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং প্রয়োজনে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার পথ খোলা রাখতেই এই মোতায়েন। গত সপ্তাহে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে রণতরিগুলো যাত্রা শুরু করে। সম্প্রতি ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারের ব্যাপক দমন-পীড়নের ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার হুমকির মুখে ইরান প্রায় ৮৪০ জনের ফাঁসি কার্যকর করা বাতিল করেছে। তিনি বলেন, “আমি বলেছিলাম, যদি ওই মানুষগুলোকে ঝোলানো হয়, তবে তোমাদের ওপর এমন আঘাত হানা হবে যা তোমরা কখনও দেখোনি। তোমাদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে আমরা যা করেছি, তার তুলনায় সেটি হবে নগণ্য।”
ট্রাম্পের মতে, নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগে ফাঁসি বাতিলের এই সিদ্ধান্ত একটি ‘ভালো লক্ষণ’।
তবে ইরান যদি পুনরায় পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র আবারও আঘাত হানবে বলে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “তারা যদি আবারও চেষ্টা করে, তবে অন্য এলাকায় গিয়ে করতে হবে। আমরা সেখানেও সমান সহজে আঘাত হানব।”
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, তারা অন্তত সাত মাস ধরে ইরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ যাচাই করতে পারেনি। সংস্থাটির মতে, ইরানের কাছে ৪৪০.৯ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ। এটি পর্যাপ্ত পরিমাণে সমৃদ্ধ করা গেলে ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য যথেষ্ট হতে পারে।
এদিকে ইরানে অর্থনৈতিক দুর্দশাকে কেন্দ্র করে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৫১৯ জনের মৃত্যুর খবর তারা নিশ্চিত করেছে। তবে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক ইরানি কর্মকর্তা নিহতের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন, যাদের মধ্যে ৫০০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
বিক্ষোভে ঠিক কতজন নিহত হয়েছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “কেউ নিশ্চিতভাবে জানে না... তবে সংখ্যাটা যাই হোক, তা অনেক বেশি।”