গণমাধ্যম সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
প্রতি বছরের মতো এবারও মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে বিদ্যা, কলা ও সংগীতের দেবী সরস্বতীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ ভবনের নিচে আয়োজিত গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের পূজাটি এক ব্যতিক্রমী বার্তা বহন করেছে। এই পূজার মূল থিম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল গণমাধ্যমের ওপর সাম্প্রতিক 'মব ভায়োলেন্স' ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদ।
পূজামণ্ডপের বেদির পেছনে প্রতীকীভাবে দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের আগুনে পোড়া অফিস ভবনের ছবি প্রদর্শন করা হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সাম্প্রতিক সময়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ঘটে যাওয়া বর্বর হামলার প্রতি তাঁদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের দায়বদ্ধতা ও গণতন্ত্রের প্রশ্ন
পূজার অন্যতম আয়োজক ও বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী উপমা মণ্ডল বলেন, “আমরা সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে গণমাধ্যমের ওপর বর্বর হামলার প্রতিবাদ জানানো আমাদের দায়িত্ব বলে মনে করি। গণমাধ্যম স্বাধীন না হলে কোনো দেশের গণতন্ত্র টেকসই হতে পারে না।” তিনি আরও জানান, তাঁরা একটি সমৃদ্ধ শিক্ষাজীবনের প্রত্যাশায় দেবীর আরাধনা করছেন।
বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী জয় দাস জানান, তাঁদের বিভাগের সরস্বতী পূজার মণ্ডপের থিম প্রতিবছরই ভিন্ন হয় এবং এবার তাঁরা সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমের ওপর যে সহিংসতা হয়েছে, সেটিই গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন।
জবির জাঁকজমকপূর্ণ পূজা ও বিভাগের প্রশংসা
পূজা উদযাপন কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৩৯টি মণ্ডপে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে—এর মধ্যে ৩৬টি বিভাগ, দুটি ইনস্টিটিউট ও একটি হল অন্তর্ভুক্ত। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে পূজা উদযাপিত হয়েছে।
পূজা কমিটির সভাপতি রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ব্যতিক্রমধর্মী থিমের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা চাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হোক এবং সব ধরনের মব সহিংসতা বন্ধ হোক।”
শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী দেবীর আবাহনের মধ্য দিয়ে পূজা শুরু হয়ে পুষ্পাঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে শেষ হয়।