ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেছেন ফজলু নামের এক কর্মচারী। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলাকারী কর্মচারী নিজেও নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
ঘটনার বিবরণ ও নেপথ্যের কারণ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলু দীর্ঘ দিন ধরে বেতন সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছিলেন। এর আগে বিভাগীয় সভাপতির সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে তার বাকবিতণ্ডাও হয়েছিল। সম্প্রতি তাকে সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। দীর্ঘদিনের পরিচিত কর্মস্থল থেকে বদলি এবং বকেয়া বেতনের ক্ষোভ থেকেই তিনি এই হামলা চালিয়েছেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, ফজলু এই বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন কর্মচারী ছিলেন। প্রায় দুই মাস আগে তাকে বদলি করা হলেও তিনি বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। এ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে তার রেষারেষি চলছিল। বুধবার বিকেলে সুযোগ বুঝে তিনি চেয়ারম্যানের কক্ষে প্রবেশ করে দরজা আটকে দেন এবং এই নৃশংসতা চালান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধার অভিযান ভবনের নিচে দায়িত্বরত এক আনসার সদস্য জানান, হঠাৎ উপর থেকে চিৎকার শুনে তারা দৌড়ে গিয়ে দেখেন দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের পর দেখা যায়, অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন এবং ফজলু নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ঘটনার সময় বিভাগে অন্য কোনো শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না। বিকেল ৫টায় একটি প্রোগ্রাম থাকার কথা থাকলেও তার আগেই নির্জনতার সুযোগে এই হামলা চালানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ঘটনায় গভীর আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।