আলোচিত ঘটনার নেপথ্যে ২০১৬ সালের ২৯ জুন, যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি লেকসের একটি আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ বাড়িতে অভিযান চালায় মায়ামি পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা ক্রিস ক্যাসিয়ানো ও তাঁর দল। বছরের পর বছর ধরে চলা একটি মাদক পাচার তদন্তের চূড়ান্ত পর্যায় ছিল এটি। তবে বাড়ির ভেতরে ঢুকে তারা অপ্রত্যাশিত এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। লুকানো একটি গোপন কক্ষ থেকে উদ্ধার হয় কমলা রঙের ২৪টি বড় বালতি, যার প্রতিটিতে ছিল ১০০ ডলারের নোটের বান্ডিল। মোট ২ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার! পুলিশের ইতিহাসে এটিই ছিল অর্থ জব্দের সর্বোচ্চ ঘটনা। বিপুল এই অর্থের সন্ধান পেয়েই দলের মধ্যে শুরু হয় অবিশ্বাস আর সন্দেহের খেলা, যেখানে কাকে বিশ্বাস করবে আর কাকে করবে না, তা বুঝে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে।
বন্ধুত্ব ও ক্ষমতার টানাপোড়েন সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই ক্রাইম থ্রিলারটি শুধু একটি রোমাঞ্চকর পুলিশি অভিযানের গল্প নয়, এটি দেখায় কীভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ মানুষের মনস্তত্ত্বকে প্রভাবিত করে এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বেও ফাটল ধরায়। ছবিতে ম্যাট ডেমন সদ্য পদোন্নতি পাওয়া ইউনিটপ্রধান ডুমার্সের চরিত্রে এবং বেন অ্যাফ্লেক তাঁর পুরোনো সহকর্মী ডিটেকটিভ সার্জেন্ট জে ডি বার্নের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ক্ষমতার এই পালাবদল তাদের সম্পর্কের ভেতরে এক নতুন টানাপোড়েন তৈরি করে, যা চলচ্চিত্রের মূল আকর্ষণ।
পরিচালকের বার্তা ছবির লেখক ও পরিচালক জো কারনাহান জানান, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না কোনো গুরুগম্ভীর ছবি নির্মাণ করা। বরং তিনি চেয়েছেন বিনোদনের মোড়কে একটি গভীর বার্তা দিতে। তাঁর মতে, সিনেমাটি মূলত মানুষে-মানুষে সম্পর্ক, বন্ধুত্ব এবং ভালোবাসার মানুষের জীবনে গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। সমালোচকদের মতে, ছবিতে গুলি বা ধাওয়ার চেয়েও বেশি রোমাঞ্চ তৈরি হয় এই অপেক্ষার মধ্য দিয়ে—দীর্ঘ সময় ধরে টাকা গোনা, তাকিয়ে থাকা এবং এত অর্থের পাশে দাঁড়িয়ে থাকলে মানুষের মন আসলে কেমন হয়ে ওঠে, তা জানার প্রচেষ্টা থেকেই আসে ছবির আসল উত্তেজনা।