নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, এবারের সংসদীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনে সব মিলিয়ে ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে জাতীয় নির্বাচনে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর জোরালো দাবি থাকলেও এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা হতাশাজনক। মোট প্রার্থীর মধ্যে নারী মাত্র ৮১ জন, যা শতাংশের হিসেবে মাত্র ৪ দশমিক ০৮ শতাংশ।
জুলাই সনদ ও দলের অঙ্গীকার বনাম বাস্তবতা
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রতিটি রাজনৈতিক দল থেকে ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে অধিকাংশ দল একমত হয়েছিল। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ১০ শতাংশের প্রস্তাব দিলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপির ৫ শতাংশের প্রস্তাবটি ‘জুলাই সনদ’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ধাপে ধাপে নারী প্রতিনিধিত্ব ৩৩ শতাংশে উন্নীত করার। তবে নারী অধিকারকর্মীদের মতে, প্রথম ধাপেই রাজনৈতিক দলগুলো তাদের এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
মনোনয়ন ও প্রার্থীর তালিকা
ইসি সচিবালয়ের তথ্যমতে, ৩ হাজার ৪১৭ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে ২ হাজার ৫৮০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাই ও আপিল শুনানি শেষে ৪৩৬ জন প্রার্থিতা ফিরে পান। পরবর্তীতে ৩০৫ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৮১ জনে। তবে সীমানা জটিলতায় পাবনা-১ ও ২ আসনের কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত হলেও পরে নতুন তফসিলে ৯ জন প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা আরও কিছুটা বাড়বে।
কোন অঞ্চলে নারী প্রার্থী কত?
নির্বাচন কমিশন সারাদেশের ৩০০ আসনকে ১০টি প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করেছে। অঞ্চলগুলো হলো— ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, ময়মনসিংহ, রংপুর, সিলেট, ফরিদপুর এবং কুমিল্লা। এই অঞ্চলগুলোর মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যায় বড় ধরনের তারতম্য দেখা গেছে।
ঢাকা অঞ্চল: ঢাকা অঞ্চল থেকে সবচেয়ে বেশি ২৩ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- মানিকগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানম, মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের রোকেয়া আক্তার, ঢাকা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অন্তরা সেলিমা হুদা, ঢাকা-৫ আসনের বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী শাহিনুর আক্তার সুমি, ঢাকা-৭ আসনের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) প্রার্থী শাহানা সেলিম ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী সীমা দত্ত, ঢাকা-৮ আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মেঘনা আলম, ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা, গণফোরামের প্রার্থী নাজমা আক্তার, ঢাকা-১০ আসনের আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) প্রার্থী নাসরীন সুলতানা, জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী বহ্নি বেপারী, ঢাকা-১২ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিমা আখতার, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী মোছা. সালমা আক্তার, ঢাকা-১৩ আসনের ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী ফাতেমা আক্তার মুনিয়া, ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম, ঢাকা-১৮ আসনের ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মিসেস সাবিনা জাবেদ, ঢাকা-১৯ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী দিলশানা পারুল, ঢাকা-২০ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাবিলা তাসনিদ, গাজীপুর-১ আসনের বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী তসলিমা আক্তার, গাজীপুর-১ আসনের ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী সরকার তাসলিমা আফরোজ, নরসিংদী-১ আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী শিরিন আক্তার, নরসিংদী-৫ আসনের ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী তাহমিনা আক্তার, জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী মেহেরুন নেছা খান হেনা।