ঐতিহাসিক বাঁক-বদলের মুহূর্ত
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মামুনুল হক বলেন, আজ ইতিহাসের এক ঐতিহাসিক বাঁক-বদলের মুহূর্তে বাংলাদেশের মানুষ নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। পুরোনো দুর্বৃত্তপনার রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ছুড়ে ফেলে দিয়ে নতুন বন্দোবস্ত গড়বার লক্ষ্যে জনতার ঐক্য গড়ে তুলেছে। তিনি উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আজকের এই বিপুল উপস্থিতি প্রমাণ করে দিয়েছে বাংলাদেশে আর পুরোনো রাজনীতির ব্যবস্থা চলবে না এবং ফ্যাসিবাদী রাজনীতি ফিরে আসবে না, ইনশাআল্লাহ।
শ্রমিকদের কষ্টার্জিত সম্পদ ও ‘বেগম পাড়া’
শ্রমজীবী মানুষের কঠোর পরিশ্রমের কথা উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, কৃষক, শ্রমিক, রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে বিদেশে রেমিটেন্স যোদ্ধারা পর্যন্ত ৮ ঘণ্টার পরিবর্তে ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত পরিশ্রম করেন কেবল পরিবারের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের আশায়। কিন্তু বিগত ৫৪ বছর ধরে আমরা দেখেছি, শাসকগোষ্ঠী প্রশাসনের চেয়ারে বসে জনগণের সম্পদ দিয়ে দেশ ও জনগণের উন্নয়নের বদলে নিজেদের ভাগ্য গড়বার লক্ষ্যে বিদেশে 'বেগম পাড়া' গড়ে তুলেছে।
আকাঙ্ক্ষিত উন্নতি অর্জনে ব্যর্থতা
তিনি বলেন, অনেক জীবনের বিনিময়ে বাংলাদেশ এ পর্যায়ে এসেছে। বাংলাদেশের মানুষ বারবার আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ দেশের শাসকগোষ্ঠীর দুর্নীতি, চুরি ও লুটপাটের কারণে স্বাধীনতার রক্ত রাঙা সুফল তারা ঘরে তুলতে পারেনি। কাঙ্ক্ষিত উন্নতি অর্জন করতে না পেরে দেশের মানুষকে শুধু উন্নয়নের গালগল্প শোনানো হয়েছে।
১০ দলীয় জোটের লক্ষ্য
মামুনুল হক জোর দিয়ে বলেন, ১০ দলীয় জোট কোনো এক নেতার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা বা কোনো একটি দলের স্বার্থে গঠিত হয়নি। ১০ দলীয় ঐক্য গঠিত হয়েছে বাংলার মানুষের ভাগ্য গড়বার জন্য। তিনি আরও বলেন, ১০ দলের মনোনীত প্রার্থী কোনো একক দলের প্রার্থী নন, তিনি নিপীড়িত বাংলার আপামর জনগণের মনোনীত প্রার্থী।
প্রার্থীর প্রতিশ্রুতি ও জনসমাগম
অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বক্তব্য রাখেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, ক্ষমতায় গেলে বাউফলের নাগরিক হিসেবে বগা সেতুসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করবেন। তিনি আরও বলেন, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচিত করলে তিনি ৬০ দিনে মাদকমুক্ত বাউফল ও ৯০ দিনে দুর্নীতিমুক্ত বাউফল উপহার দেবেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাউফল উপজেলা শাখার আমির মাওলানা মুহা. ইসহাক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে সকাল থেকেই হাজার হাজার নেতাকর্মী ব্যানার-ফেস্টুনসহ জড়ো হতে থাকে এবং বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ পাবলিক মাঠ ও এর আশপাশের এলাকা কানায় কানায় ভরে যায়।