কঠিন লড়াইয়ে প্রথমার্ধের চিত্র শনিবার (২৪ জানুয়ারি) লা সেরামিকা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল হাই-প্রেস ও শারীরিক লড়াইয়ে পরিপূর্ণ। ভিয়ারিয়াল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। প্রথমার্ধে রিয়াল মাদ্রিদ কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে ম্যাচের গতি বুঝে খেলার চেষ্টা করে। তবে আর্দা গুলের ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে কয়েকটি পাল্টা আক্রমণে তারা প্রতিপক্ষের জন্য বিপদ তৈরি করে।
দ্বিতীয়ার্ধে এমবাপ্পের ঝলক দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গতি ও ড্রিবল থেকে তৈরি হওয়া এক আক্রমণে বল ভাগ্যক্রমে এমবাপ্পের পায়ে এলে তিনি সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি। তার শক্তিশালী শটে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ।
ভিয়ারিয়ালের ব্যর্থতা ও কোর্তোয়ার দৃঢ়তা রিয়াল গোল দেওয়ার পর ম্যাচ আরও উন্মুক্ত হয়ে যায়। সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া ভিয়ারিয়াল বেশ কয়েকটি সুযোগ পেলেও জেরার্দ মোরেনো ও পারেজোরা শেষ মুহূর্তে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। ম্যাচের শেষদিকে স্বাগতিকরা চাপ বাড়াতে থাকলেও রিয়ালের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার দৃঢ়তায় ব্যবধান ধরে রাখে আলভারো আর্বেওলার দল।
পেনাল্টি থেকে দ্বিতীয় গোল যোগ করা সময়ে ভিয়ারিয়ালের বক্সে এমবাপ্পে নিজেই ফাউলের শিকার হন। পেনাল্টি পায় রিয়াল। ঠান্ডা মাথায় পানেনকা (Panenka) স্টাইলে গোল করে নিজের দ্বিতীয় ও দলের জয় নিশ্চিতকারী গোলটি করেন এমবাপ্পে। এই জয় রিয়ালের শিরোপা দৌড়ে এমবাপ্পের অপরিহার্যতা আবারও প্রমাণ করল।
শীর্ষে উঠে রিয়ালের লক্ষ্য এই জয়ে টানা তৃতীয় ম্যাচে জয় পেল রিয়াল মাদ্রিদ এবং আপাতত তারা লা লিগা টেবিলের শীর্ষস্থানে অবস্থান নিয়েছে। নতুন কোচিং প্রকল্পের অধীনে দলটি যে ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছে, তা এই ম্যাচেই স্পষ্ট। লা লিগার শীর্ষে থেকে আত্মবিশ্বাসী রিয়াল মাদ্রিদের পরবর্তী লক্ষ্য হলো সামনে ইউরোপ ও ঘরোয়া লড়াইয়ে এই ছন্দ ধরে রাখা।