দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতে না গিয়ে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচগুলো খেলতে চেয়েছিল। তবে আইসিসি তাদের এই আবেদন নাকচ করে দেয়। আইসিসির এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার প্রকাশ্যে অসন্তোষ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দুই সাবেক তারকা—পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি ও অস্ট্রেলিয়ার জেসন গিলেস্পি।
আফ্রিদির চোখে ‘ধারাবাহিকতার অভাব’
আইসিসির এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় শহীদ আফ্রিদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, আইসিসির সিদ্ধান্তে স্পষ্টতই ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে। আফ্রিদির মতে, অতীতে যখন অন্য দেশগুলো নিরাপত্তাজনিত কারণে নিরপেক্ষ ভেন্যুর আবেদন করেছিল, তখন তা মেনে নেওয়া হয়েছিল; কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, “বিশ্ব ক্রিকেটে ন্যায্যতা ও সমতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ক্রিকেটার এবং তাদের সমর্থকরা সম্মান প্রত্যাশা করে। দ্বিচারী আচরণ কোনো সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।”।
গিলেস্পির প্রশ্ন, আইসিসি কি কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছে?
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার জেসন গিলেস্পিও আইসিসির এই অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানতে চান, বাংলাদেশের ম্যাচ অন্য ভেন্যুতে সরানো সম্ভব নয়—এ বিষয়ে আইসিসি কি কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিয়েছে?।
গিলেস্পি অতীতের উদাহরণ টেনে আরও বলেন, “সম্প্রতি ভারত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল এবং তাদের নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলতে দেওয়া হয়েছিল। তাহলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কেন একই ব্যবস্থা নেওয়া হলো না—এই প্রশ্নের জবাব দরকার।”।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিকল্প স্কটল্যান্ড
শনিবার এক বিবৃতিতে আইসিসি নিশ্চিত করে যে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে মূল বাছাইয়ে জায়গা না পাওয়া দলগুলোর মধ্যে স্কটল্যান্ড ছিল সবার ওপরে, সেই বিবেচনাতেই তাদের সুযোগ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ বাদ পড়ায় গ্রুপ বিন্যাসেও পরিবর্তন এসেছে। গ্রুপ ‘সি’-তে বাংলাদেশের জায়গায় এখন খেলবে স্কটল্যান্ড। স্কটিশরা এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি, ইংল্যান্ড ও নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে। কেবল প্রতিপক্ষ বদলানো হয়েছে, দিনক্ষণ ও ভেন্যু অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের বাদ পড়া কেবল দল পরিবর্তনের ঘটনা নয়, বরং এটি আইসিসির নীতি ও সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, যেখানে সাবেক তারকারাও প্রকাশ্যে সংস্থাটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।