• দেশজুড়ে
  • দুই দশক পর খালেদা জিয়ার ফেনীতে তারেক রহমান: নির্বাচনী জনসভাকে কেন্দ্র করে তিন জেলার নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড়

দুই দশক পর খালেদা জিয়ার ফেনীতে তারেক রহমান: নির্বাচনী জনসভাকে কেন্দ্র করে তিন জেলার নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড়

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
দুই দশক পর খালেদা জিয়ার ফেনীতে তারেক রহমান: নির্বাচনী জনসভাকে কেন্দ্র করে তিন জেলার নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড়

লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী থেকে ফেনী অভিমুখে জনস্রোত; শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

দীর্ঘ দুই দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ নিজ পৈতৃক জনপদ ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত জেলা ফেনীতে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই বিশাল জনসভাকে কেন্দ্র করে পুরো শহর এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। সকাল থেকেই ফেনী ছাড়াও নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে জড়ো হচ্ছেন হাজার হাজার নেতাকর্মী।

ফেনীর রাজপথে উৎসবের আমেজ: জনস্রোত অভিমুখে জনসভাস্থল

দুপুর গড়ানোর আগেই জনসভাস্থল ও এর আশপাশের এলাকা নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে ওঠে। নেতাকর্মীদের হাতে শোভা পাচ্ছে ধানের শীষ, মাথায় দলীয় মনোগ্রাম সংবলিত ক্যাপ এবং পরনে রঙিন টি-শার্ট ও পাঞ্জাবি। শুধু ফেনী শহর নয়, জেলার প্রবেশপথগুলোতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা বাস, মাইক্রোবাস ও পিকআপের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। বৃহত্তর নোয়াখালীর তিন জেলার এই সমন্বিত উপস্থিতিতে ফেনীর রাজপথ এখন স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে আসা এক প্রবীণ কর্মী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বহু রাজনীতি করেছি। আজ তাঁর স্মৃতিবিজড়িত এই মাটিতে তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমানকে দেখতে এসেছি। আমাদের জন্য এটি কেবল জনসভা নয়, এক আবেগঘন মুহূর্ত।”

কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী: শহরজুড়ে ‘সিকিউরিটি প্রোটোকল’

বিএনপি চেয়ারম্যানের আগমণ ও বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক ‘Security Protocol’ গ্রহণ করেছে। জনসভাস্থল ও এর চারপাশকে তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে— রেড জোন, ইয়েলো জোন এবং গ্রিন জোন। ফেনী সরকারি কলেজ গেটসহ শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যেকোনো ধরনের ‘Unwanted Situation’ বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

রাজনৈতিক গুরুত্ব ও নির্বাচনী রণকৌশল

এই জনসভাটি বিএনপির নির্বাচনী ‘Political Landscape’-এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জনসভা থেকে বৃহত্তর নোয়াখালীর তিন জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসনের দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন তারেক রহমান। জেলা বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির আসন্ন নির্বাচনের আগে এই জনসভা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে এবং নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করবে।

এছাড়াও, ২০২৪ সালের ৪ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফেনীতে যারা শাহাদাতবরণ করেছেন, সেই ‘Martyr Families’ বা শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। আহতদের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তিনি এই অভ্যুত্থানের গুরুত্ব নিয়ে জনসভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন।

ডিজিটাল সংযুক্তি ও তারেক রহমানের দিনলিপি

মাঠের ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মানুষের সমাগম হবে ধরে নিয়ে জেলা বিএনপি শহরের অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বড় পর্দা বা ‘Digital Screens’ বসিয়েছে, যাতে জনসভাস্থলে ঢুকতে না পারা সাধারণ মানুষ চেয়ারম্যানের বক্তব্য সরাসরি শুনতে পারেন।

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের আজকের দিনটি ছিল অত্যন্ত ব্যস্ত। দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে এক বিশাল ‘Mass Gathering’ বা মহাসমাবেশে অংশ নেওয়ার পর তিনি ফেনী পৌঁছাবেন। ফেনীর জনসভা শেষ করে তিনি সড়কপথে কুমিল্লার একাধিক নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেবেন। সর্বশেষ রাতে ঢাকা ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে দিনের সমাপনী জনসভার মাধ্যমে তাঁর এই ঝটিকা সফর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

Tags: bangladesh election tarique rahman political news mass gathering election campaign khaleda zia feni news security protocol martyr families bnp rally