• আন্তর্জাতিক
  • ইরানে ‘শক্তিশালী আক্রমণের’ ছক ট্রাম্পের: নেপথ্যে লজিস্টিক ও গোয়েন্দা সহায়তায় দুই মুসলিম রাষ্ট্রসহ ব্রিটেন

ইরানে ‘শক্তিশালী আক্রমণের’ ছক ট্রাম্পের: নেপথ্যে লজিস্টিক ও গোয়েন্দা সহায়তায় দুই মুসলিম রাষ্ট্রসহ ব্রিটেন

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ইরানে ‘শক্তিশালী আক্রমণের’ ছক ট্রাম্পের: নেপথ্যে লজিস্টিক ও গোয়েন্দা সহায়তায় দুই মুসলিম রাষ্ট্রসহ ব্রিটেন

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের চাঞ্চল্যকর দাবি; মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষায় ওয়াশিংটনের পাশে দাঁড়াচ্ছে জর্ডান ও আমিরাত

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে ইরানের ওপর এক ‘শক্তিশালী আক্রমণের’ প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। অত্যন্ত গোপনীয় ও কৌশলগত এই সামরিক অভিযানে ওয়াশিংটনকে সরাসরি লজিস্টিক (Logistics) ও গোয়েন্দা তথ্য (Intelligence) দিয়ে সহায়তা করবে দুই মুসলিম রাষ্ট্র জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই জোটে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে থাকছে শক্তিশালী পশ্চিমা মিত্র যুক্তরাজ্য। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘ইসরাইল হায়োম’-এর বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে প্রভাবশালী গণমাধ্যম মিডল ইস্ট আই।

ট্রাম্পের ‘মৌলিক কৌশলগত পদক্ষেপ’ ও মিত্রদের অবস্থান

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে যে, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি-নির্ধারকরা ইরানের বিরুদ্ধে একটি ‘মৌলিক কৌশলগত পদক্ষেপ’ বা 'Fundamental Strategic Step' নিতে চলেছেন। এই অভিযানে শুধুমাত্র সামরিক শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে পঙ্গু করে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইসরাইলি নিরাপত্তা সূত্রগুলো দাবি করছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান এবং ব্রিটেন ইতোমধ্যেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান (Intelligence Sharing) শুরু করেছে। এই দেশগুলো মূলত সম্ভাব্য ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার ক্ষেত্রে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ভূমিকা পালন করবে। এই সমন্বিত অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ইসরাইল, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো (Energy Infrastructure) রক্ষা করা।

সেন্টকম প্রধানের ইসরাইল সফর ও সমর-সজ্জা

ইরানের বিরুদ্ধে এই সম্ভাব্য অভিযানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ইসরাইলের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। এই বৈঠকের ঠিক এক দিন পরেই মিত্র দেশগুলোর সহায়তার খবরটি প্রকাশ্যে আসে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন ও ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী বর্তমানে অভূতপূর্ব স্তরে তাদের কমান্ড চেইন বা ‘কমান্ড এন্ড কন্ট্রোল’ সমন্বয় করেছে, যা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার জন্য যথেষ্ট।

আরব বিশ্বের কূটনৈতিক বিভাজন ও আতঙ্ক

ইরানে সম্ভাব্য হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে গভীর ফাটল ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সৌদি আরব, ওমান এবং কাতার এই যুদ্ধ বন্ধের জন্য চরম কূটনৈতিক প্রচেষ্টা (Diplomatic Effort) চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই লড়াইয়ে পুরো অঞ্চল এক ভয়াবহ যুদ্ধের দাবানলে দগ্ধ হতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বিপর্যয় ডেকে আনবে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান এখনও কিছুটা রহস্যময়। দেশটির কর্মকর্তারা এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিলেও ইসরাইলি গণমাধ্যমের দাবি, তারা মার্কিন পক্ষেই রয়েছে।

ইরানের হুঁশিয়ারি: ‘এটি হবে সর্বাত্মক যুদ্ধ’

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানি উপকূলের দিকে যুদ্ধজাহাজের বহর পাঠানোর ঘোষণার পর তেহরান কঠোর হুঙ্কার দিয়েছে। ইরানের সামরিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরনের উসকানি বা হামলাকে তারা ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ বা 'Total War' হিসেবে গণ্য করবে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিতে গিয়ে ইসরাইল ইতোমধ্যেই চরম পরাজয়ের মুখে পড়েছে। তিনি একে ‘লজ্জাজনক পরাজয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, ইসরাইলি মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী অভিযানগুলো তেহরান সফলভাবে নস্যাৎ করে দিয়েছে।

একই সঙ্গে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়ি-নিক জানিয়েছেন, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগের চেয়ে কয়েকগুণ শক্তিশালী করা হয়েছে। মার্কিন হামলার আশঙ্কায় ইরানের সামরিক বাহিনী এখন ‘হাই অ্যালার্ট’ বা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ নাকি আসন্ন সংঘাত?

ট্রাম্পের এই হুমকিকে ইরানের নাগরিকদের একটি অংশ কেবল ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ (Psychological Warfare) হিসেবে দেখলেও, তেহরানের রাজপথে উদ্বেগ ও ক্ষোভ স্পষ্ট। ওয়াশিংটন যদি সত্যিই জর্ডান ও আমিরাতের লজিস্টিক সহায়তা নিয়ে হামলা চালায়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, হোয়াইট হাউসের এই গোপন ছক শেষ পর্যন্ত বাস্তব রূপ নেয় কি না।

Tags: middle east donald trump global security us iran energy infrastructure intelligence sharing logistics support uae jordan centcom news total war