দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম যেন রকেট গতিতে ছুটছে। সবশেষ ৫টি সমন্বয়ের মধ্যে ৪ বারই দাম বাড়িয়ে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে মূল্যবান এই ধাতু। মাত্র দুই দফার ব্যবধানে স্বর্ণের দাম ভরিতে মোট ৭ হাজার ৮৭৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। সবশেষ রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (BAJUS) এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে, যা দেশের জুয়েলারি ইতিহাসে এক নতুন উচ্চতা বা All-time High তৈরি করেছে।
রেকর্ড উচ্চতায় ২২ ক্যারেট স্বর্ণ
বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (Pure Gold) দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) থেকে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকা। এর আগে ২৩ জানুয়ারি এই মানদণ্ডের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা। অর্থাৎ, মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ভরিতে বেড়েছে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা।
অন্যান্য মানের স্বর্ণ ও আনুষঙ্গিক খরচ
নতুন দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৪৫ হাজার ৫২৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৪১৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৯১৯ টাকা। তবে গোল্ড জুয়েলারি কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাকে এই Retail Price-এর সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ VAT এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি বা Wage Charge বাধ্যতামূলকভাবে পরিশোধ করতে হবে। গহনার অলঙ্করণ বা ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে এই মজুরির তারতম্য হতে পারে।
ঘনঘন মূল্য সমন্বয়: বাজার অস্থিরতার ইঙ্গিত?
চলতি ২০২৬ সালের প্রথম মাসেই এখন পর্যন্ত ১৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে, আর কমানো হয়েছে মাত্র ৩ বার। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে রেকর্ড ৯৩ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বারই ছিল উর্ধ্বমুখী। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মান পরিবর্তনের কারণে স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের Market Value স্থিতিশীল থাকছে না।
রুপার বাজারেও রেকর্ড ব্রেকিং মূল্য
স্বর্ণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাধারণ মানুষের ধাতু হিসেবে পরিচিত রুপার দামও এখন আকাশছোঁয়া। বাজুস এবার রুপার দাম ভরিতে ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করেছে ৭ হাজার ২৩২ টাকা। এটিও দেশের ইতিহাসে রুপার সর্বোচ্চ দাম। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৬ হাজার ৯৪০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ৯৪৯ টাকায় বিক্রি হবে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১০ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭ বারই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং সরবরাহ সংকটের কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ক্রেতাদের জন্য এখন স্বর্ণ বা রুপার অলঙ্কার কেনা এক প্রকার বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।