• খেলা
  • ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: দল ঘোষণা করলেও পাকিস্তানের অংশগ্রহণ এখন সরকারের ‘সবুজ সংকেতে’র অপেক্ষায়

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: দল ঘোষণা করলেও পাকিস্তানের অংশগ্রহণ এখন সরকারের ‘সবুজ সংকেতে’র অপেক্ষায়

খেলা ১ মিনিট পড়া
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: দল ঘোষণা করলেও পাকিস্তানের অংশগ্রহণ এখন সরকারের ‘সবুজ সংকেতে’র অপেক্ষায়

আইসিসির সঙ্গে সংঘাত ও বাংলাদেশের পক্ষাবলম্বন; শেষ মুহূর্তে কি বিশ্বকাপ বয়কটের পথে হাঁটবে পিসিবি?

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মহারণকে সামনে রেখে নিজেদের ১৫ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড (Squad) ঘোষণা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB)। তবে দল ঘোষণা করা হলেও বিশ্বমঞ্চে বাবর আজমদের উপস্থিতি নিয়ে এখনও কাটেনি ঘোরতর অনিশ্চয়তা। মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে পিসিবি এখন তাকিয়ে আছে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। ক্রিকেটীয় কূটনীতি এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে পাকিস্তান সরকারের গ্রিন সিগন্যাল পেলেই কেবল নিশ্চিত হবে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা।

দল ঘোষণা সত্ত্বেও কাটছে না অনিশ্চয়তা

পিসিবির নির্বাচক কমিটির প্রভাবশালী সদস্য আকিব জাভেদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্বাচক হিসেবে তাদের দায়িত্ব ছিল সেরা দল নির্বাচন করা এবং তারা সেটি সময়সীমার মধ্যেই সম্পন্ন করেছেন। তবে এই দল শেষ পর্যন্ত প্লেনে উঠবে কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় নীতি ও সিদ্ধান্তের ওপর। লাহোরে গণমাধ্যমকে আকিব জাভেদ বলেন, “আমরা আমাদের কাজ করেছি। বোর্ড চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি আগেই জানিয়েছেন যে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়টি এখন সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। আমরা সেই নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি।”

নেপথ্যে আইসিসি ও বাংলাদেশ ইস্যু

পাকিস্তানের এই দোটানার মূলে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল বা আইসিসির (ICC) সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। নিরাপত্তা ঝুঁকির (Security Risk) কারণ দেখিয়ে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে অনীহা প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB)। বিসিবির পক্ষ থেকে লিটন-শান্তদের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আইসিসিকে আনুষ্ঠানিক চিঠিও দেওয়া হয়েছিল।

এই ইস্যুতে আইসিসির বোর্ড মিটিংয়ে ভোটাভুটি হলে দেখা যায় চাঞ্চল্যকর চিত্র। ১৫টি ভোটের মধ্যে একমাত্র পাকিস্তানই বাংলাদেশের দাবির পক্ষে অবস্থান নেয়। বাকি দেশগুলো ভারতের পক্ষে থাকায় ভোটাভুটিতে হেরে যায় বাংলাদেশ। আইসিসির এমন একপেশে মনোভাবের কড়া সমালোচনা করেছেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আইসিসি যদি সদস্য দেশগুলোর যৌক্তিক নিরাপত্তা উদ্বেগ আমলে না নেয়, তবে পাকিস্তান ভারত ও শ্রীলঙ্কায় আয়োজিত টুর্নামেন্ট বয়কট (Boycott) করতে পারে।

ক্রিকেটীয় কূটনীতি ও পিসিবির কড়া অবস্থান

পিসিবির বর্তমান প্রধান মহসিন নাকভি শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাকে নিরপেক্ষ হতে হবে। বাংলাদেশকে সমর্থন দেওয়া এবং আইসিসির ভোটাভুটির ফল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার চাইলে যেকোনো মুহূর্তে পাকিস্তান নাম প্রত্যাহার করে নিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, তবে কেন তড়িঘড়ি করে স্কোয়াড ঘোষণা করা হলো? এর জবাবে বোর্ড সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইসিসির নির্ধারিত ডেডলাইন (Deadline) মেনে টেকনিক্যাল কারণে দল ঘোষণা করা হলেও এটি কোনোভাবেই অংশগ্রহণের চূড়ান্ত নিশ্চয়তা নয়।

সমর্থনে মুখর পাকিস্তানের কিংবদন্তিরা

আইসিসির অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবং বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর পিসিবির এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক তারকা ক্রিকেটাররা। শহীদ আফ্রিদি, রশিদ লতিফ এবং মোহাম্মদ শেহজাদরা মনে করেন, নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা উচিত নয়। এমনকি পিসিবির সাবেক চেয়ারম্যান নাজাম শেঠিও বর্তমান বোর্ডের এই ‘হার্ডলাইন’ অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশের স্বার্থে পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপ বয়কট করার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সেটি যৌক্তিক হবে।

এখন ক্রিকেট বিশ্বের নজর পাকিস্তান সরকারের দিকে। কূটনৈতিক এই টানাপোড়েনের মাঝে শেষ পর্যন্ত বাবর আজমরা বিশ্বকাপের মূল আসরে যোগ দেবেন, নাকি আইসিসির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বড় কোনো সিদ্ধান্তের পথে হাঁটবে ইসলামাবাদ, তা সময়ই বলে দেবে।

Tags: bcb babar azam pakistan cricket pcb t20 worldcup mohsin naqvi security risk icc boycott selection committee