• খেলা
  • মাঠের বাইরে নতুন চ্যালেঞ্জে বিসিবি: বিশ্বকাপ বর্জন ও বোর্ডের অস্থিরতা

মাঠের বাইরে নতুন চ্যালেঞ্জে বিসিবি: বিশ্বকাপ বর্জন ও বোর্ডের অস্থিরতা

গেম ডেভেলপমেন্ট চেয়ারম্যানের পদত্যাগ, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, বিশ্বকাপ বর্জন এবং আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা—বহুমুখী সংকটে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। অভিজ্ঞ মহলের মতে, কূটনৈতিক ব্যর্থতা ও বোর্ডের অনভিজ্ঞতাই এই অবস্থার জন্য দায়ী।

খেলা ১ মিনিট পড়া
মাঠের বাইরে নতুন চ্যালেঞ্জে বিসিবি: বিশ্বকাপ বর্জন ও বোর্ডের অস্থিরতা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জন এবং পরিচালনা পর্ষদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে কঠিন পরিস্থিতির মুখে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নিরাপত্তা শঙ্কায় বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আইসিসি কর্তৃক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বোর্ডের অনভিজ্ঞতা ও কূটনৈতিক ব্যর্থতাকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন অভিজ্ঞ মহল।

বিসিবি পরিচালনা পর্ষদে অস্থিরতা

তিন মাস পেরোতে না পেরোতেই বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের অভ্যন্তরে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ইশতিয়াক সাদেক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। এর আগেও প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম বুলবুলের উপস্থিতিতে 'প্রেসিডেন্ট বক্সে' দুই পরিচালকের বাগবিতণ্ডা ও হট্টগোল এবং ক্রিকেটারদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যের ঘটনা ঘটেছে, যা বোর্ডের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাকেই প্রকট করেছে।

বিশ্বকাপ বর্জন: অনিশ্চয়তার মুখে ভবিষ্যৎ সিরিজ

২৫ জানুয়ারি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশের ভারতে যাওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তা শঙ্কার ইস্যুতে শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে জায়গা দিয়েছে আইসিসি। এই বর্জনের ফলস্বরূপ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অনেকটাই অনিশ্চিত। মার্চে পাকিস্তানের সাদা বলের সিরিজ খেলার কথা থাকলেও তা নিয়েও অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার কারণে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফর বাতিল হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া বিসিবি নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক তুলে ঢাকা লিগ বয়কট করেছে বেশিরভাগ ক্লাব, যার ফলে ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোও অনিশ্চয়তার মুখে।

অর্থনৈতিক ক্ষতি ও নিষেধাজ্ঞার শঙ্কা

বিশ্বকাপ বর্জন করায় বিসিবি বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে। টুর্নামেন্ট থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মোটা অঙ্কের জরিমানা দিতে হতে পারে। এমনকি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে শাস্তিস্বরূপ নিষেধাজ্ঞার মতো কঠিন সিদ্ধান্তের খবরও প্রকাশিত হচ্ছে। অভিজ্ঞ সংগঠকরা মনে করছেন, আইসিসি থেকে লভ্যাংশ না এলে ক্রিকেট বোর্ডের ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার তহবিল দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে। ভারত সিরিজ থেকেই বাংলাদেশ অন্তত ১২০-১৩০ কোটি টাকা আয় করে, যা অন্যান্য সিরিজ থেকে সম্ভব নয়।

বোর্ডের অনভিজ্ঞতা ও কূটনৈতিক ব্যর্থতা

বিসিবির সাবেক পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর পুরো বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে সামাল দিতে বিসিবি প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন। তিনি বোর্ডের অনভিজ্ঞতার সমালোচনা করে বলেন, “এই বোর্ডের ৮০-৯০ শতাংশই নতুন মানুষ। এরা কেউ কখনো কোনো ক্লাব ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত ছিলেন!...” তিনি আসিফ আকবর ও আমজাদ হোসেনদের মতো পরিচালকদের মাঠ পর্যায়ে সংগঠকের ভূমিকায় না থাকার বিষয়টিও তুলে ধরেন। আরেক অভিজ্ঞ সংগঠক রফিকুল ইসলাম বাবু আইসিসিতে প্রেসিডেন্ট বুলবুলের দুর্বল অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়াকে পুরো বোর্ডের ব্যর্থতা বলে অভিহিত করেন।

স্পন্সরশিপ ও ক্রিকেটের রাজনীতি

বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া ও ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে ক্রিকেট বিপণনেও বড় ধাক্কা খেতে পারে বিসিবি। জাতীয় দলের স্পন্সর নেওয়ার সময় আকর্ষণীয় সিরিজ ও বিশ্বকাপের মতো জনপ্রিয় টুর্নামেন্ট দেখিয়ে যে বড় অঙ্কের চুক্তি করা হয়, স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলো এবার সেই পুরো অর্থ বিসিবিকে দেবে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ক্রিকেটার জন্টি রোডস এই পরিস্থিতির জন্য ক্রিকেট রাজনীতিকেই দায়ী করেছেন।

ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন ও সাবেক খেলোয়াড়দের সমর্থন

এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ)। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী টম মোফাট বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোকে 'দুঃখজনক মুহূর্ত' হিসেবে আখ্যায়িত করে এর গভীর পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে মনে করেন। তিনি বলেন, “ক্রিকেট তখনই সবচেয়ে শক্তিশালী, যখন প্রতিটি দল ও প্রতিটি খেলোয়াড়কে সম্মান করা হয়, যথাযথ ও ধারাবাহিক সমর্থন দেওয়া হয় এবং ন্যায্য শর্তে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত থাকে।” সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটার জেসন গিলেস্পি কেন বাংলাদেশ তাদের ম্যাচ ভারতের বাইরে খেলতে পারবে না, আইসিসির কাছে তার যৌক্তিক ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

Tags: bangladesh cricket bcb t20 world cup cricket politics icc aminul islam bulbul cricket sponsorship bangladesh cricket board crisis