ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু (ধানের শীষ) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোর্শেদ আলম (হরিণ মার্কা)-এর সমর্থকদের মধ্যে তীব্র সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত ও কার্যালয়ে হামলা বিগত কয়েক দিন ধরেই দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ চলছিল, যার জেরে কয়েকটি এলাকায় উত্তেজনা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সন্ধ্যায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা পৌর সদরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত বিএনপি ও পৌর বিএনপির কার্যালয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এই হামলার পরই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়।
পাল্টা হামলা ও অগ্নিসংযোগ বিএনপির কার্যালয়ে হামলার প্রতিক্রিয়ায় ধানের শীষের প্রার্থীর সমর্থকরাও পাল্টা হামলা চালায়। তারা পৌর সদরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। সংঘর্ষের সময় সিডস্টোর বাসস্ট্যান্ড এলাকার ইউনিয়ন যুবদলের কার্যালয়, স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকা সহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অন্যান্য রাজনৈতিক কার্যালয়েও ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি সংঘর্ষের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। যৌথ বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত থাকলেও পুরো ভালুকা উপজেলায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
ভালুকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং নির্বাচনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করা মো. ইকবাল হোসাইন জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীকে প্রচারণার সময় ধাক্কা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই গণ্ডগোল শুরু হয়। এরপর স্বতন্ত্র ও বিএনপির প্রার্থীর লোকজন একে অপরের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করে। সন্ধ্যায় এই সহিংসতা শুরু হয়।