• দেশজুড়ে
  • ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: সীমান্তজুড়ে বিজিবির কঠোর নজরদারি, মোতায়েন হচ্ছে ১০২ প্লাটুন সদস্য

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: সীমান্তজুড়ে বিজিবির কঠোর নজরদারি, মোতায়েন হচ্ছে ১০২ প্লাটুন সদস্য

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: সীমান্তজুড়ে বিজিবির কঠোর নজরদারি, মোতায়েন হচ্ছে ১০২ প্লাটুন সদস্য

নির্বাচনী নিরাপত্তায় কুমিল্লা সেক্টরের অধীনে ৬ জেলায় ‘মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে কাজ করবে বিজিবি; অবৈধ অস্ত্র ও অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্তে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা।

দেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্তজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB)। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্রের প্রবেশ, চোরাচালান রোধ এবং উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বাহিনীটি। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে ফেনীর দাগনভূঞার জায়লস্করস্থ ৪-বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দফতরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিজিবির এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান সেক্টর কমান্ডার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ব্রিফিংয়ে ৪-বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোশারফ হোসেন জানান, বিজিবি কুমিল্লা সেক্টর সদর দফতরের অধীনে থাকা সবকটি ব্যাটালিয়ন তাদের নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ শুরু করেছে। সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা প্রদানে বিজিবি এবার অত্যন্ত সুসংগঠিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

এক নজরে বিজিবির নির্বাচনী কর্মপরিকল্পনা

কুমিল্লা সেক্টরের অধীনে থাকা ছয়টি জেলা—ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীর মোট ৫৩টি উপজেলায় বিজিবি নিরাপত্তা টহল পরিচালনা করবে। এই জেলাগুলোর অন্তর্ভুক্ত ৩৪টি সংসদীয় আসনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি বিশেষ রণকৌশল অবলম্বন করছে।

অধিনায়ক জানান, ফেনী জেলার সীমান্তবর্তী তিনটি উপজেলায় সেনাবাহিনী ব্যতীত বিজিবি এককভাবে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া অবশিষ্ট ৯টি সীমান্তবর্তী উপজেলাসহ মোট ৪১টি উপজেলায় সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে ‘Mobile Striking Force’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি।

মোতায়েন ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের বিন্যাস

নির্বাচনী সহিংসতা রোধ ও দ্রুত সাড়া প্রদানের লক্ষ্যে বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কুমিল্লা সেক্টরের অধীনে মোট ১০২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন সম্পন্ন হবে। ব্যাটালিয়নভিত্তিক মোতায়েন পরিকল্পনা নিম্নরূপ:

১. ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪-বিজিবি): ১৯টি উপজেলার ১২টি সংসদীয় আসনে দায়িত্ব পালন করবে। ২. কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০-বিজিবি): ২২টি উপজেলার ১৪টি সংসদীয় আসনে মোতায়েন থাকবে। ৩. সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫-বিজিবি): ৫টি উপজেলার ৩টি সংসদীয় আসনে নিয়োজিত থাকবে। ৪. সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬-বিজিবি): ৭টি উপজেলার ৫টি সংসদীয় আসনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

মাঠ পর্যায়ে বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় নির্ধারিত ‘Base Camp’ বা অস্থায়ী ক্যাম্পে অবস্থান করবেন এবং যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

সীমান্ত সুরক্ষা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ

নির্বাচনের সুযোগ নিয়ে সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো ধরনের অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ কিংবা মাদকদ্রব্য বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য ৩২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা জুড়ে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোশারফ হোসেন স্পষ্ট করে বলেন, "সীমান্ত সুরক্ষা আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। নির্বাচনী ডামাডোলে যাতে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল চোরাচালান বা অনুপ্রবেশ ঘটাতে না পারে, সেজন্য আমরা কঠোর নজরদারি চালাচ্ছি।"

তিনি আরও জানান, কেবল নির্বাচন নয়, বরং সীমান্ত অপরাধ নির্মূলে বিজিবি ‘Zero Tolerance’ নীতি অনুসরণ করছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংকালে ৪-বিজিবির সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলামসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা সাধারণ জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিতে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে।

Tags: bangladesh election law enforcement bgb deployment border security border guard election security mobile striking comilla sector election vigilance illegal smuggling