লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিযোগপত্রে ২০২৫ সালের অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের বিস্তারিত তথ্যসংবলিত তিনটি সারণি যুক্ত করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, অক্টোবর মাসে ৫৪২টি, নভেম্বর মাসে ৬৯১টি এবং ডিসেম্বর মাসে ৮০৩টি, মোট ২০৩৬টি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। লেবানন কর্তৃপক্ষ এসব কর্মকাণ্ডকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের ১৭০১ নং ধারার স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সোমবার দাখিল করা এই অভিযোগে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্তের বাইরে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার, লেবাননের সার্বভৌমত্বে বারবার হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং ইসরায়েলি হেফাজতে থাকা লেবাননি বন্দিদের মুক্তির জন্য চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলা বন্ধে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে বৈরুত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর ইসরায়েলের হামলা বন্ধে চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে, কারণ এই বাহিনী অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে যাচ্ছে।”
এই অভিযোগ দাখিলের এক দিন আগে লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হন। যদিও ২০২৪ সালের নভেম্বরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তারপরও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গত বছর ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১২৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
লেবাননের ভূখণ্ডের ভেতরে পাঁচটি এলাকায় এখনও ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতির অভিযোগও তুলেছে বৈরুত। এর ফলে ধ্বংস হওয়া সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর পুনর্গঠন ব্যাহত হচ্ছে এবং গৃহহীন হাজারো মানুষ নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। লেবাননি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে সীমান্ত এলাকা থেকে আটক করা বেসামরিক নাগরিকসহ এক ডজনের বেশি লেবাননি নাগরিক এখনও ইসরায়েলের হেফাজতে রয়েছেন।
এর আগেও লেবানন জাতিসংঘে একই ধরনের অভিযোগ দাখিল করেছিল, তবে হামলা বন্ধ হয়নি। সোমবার দক্ষিণ লেবাননের ওদাইসেহ গ্রামে ইসরায়েলি ড্রোন থেকে দুটি স্টান গ্রেনেড ফেলার খবর দিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।
২০২৪ সালের শেষ দিকে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর নেতৃত্বকে দুর্বল করার পর থেকে লেবাননে নিয়মিত সামরিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। একই সময়ে লেবানন সরকার হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার উদ্যোগ নেয়। চলতি মাসে বৈরুত ঘোষণা করেছে, লিতানি নদীর দক্ষিণে সংগঠনটিকে নিরস্ত্র করা হয়েছে।