• রাজনীতি
  • ‘পোস্টার-শোডাউন’ নয়, ব্যক্তিগত বিশ্বাসই আমাদের শক্তি: ঢাকা-৯ আসনে অভিনব কৌশলে প্রচারণায় ডা. তাসনিম জারা

‘পোস্টার-শোডাউন’ নয়, ব্যক্তিগত বিশ্বাসই আমাদের শক্তি: ঢাকা-৯ আসনে অভিনব কৌশলে প্রচারণায় ডা. তাসনিম জারা

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
‘পোস্টার-শোডাউন’ নয়, ব্যক্তিগত বিশ্বাসই আমাদের শক্তি: ঢাকা-৯ আসনে অভিনব কৌশলে প্রচারণায় ডা. তাসনিম জারা

স্বতন্ত্র প্রার্থীর ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’ ক্যাম্পেইন চালু; উচ্চশব্দের মাইকিং ও পোস্টার বর্জন করে 'আস্থা ও আন্তরিক কথোপকথন'-কে মূল হাতিয়ার বানানোর ঘোষণা।

পোস্টার ও শোডাউন-এর চিরাচরিত পথ এড়িয়ে অভিনব কৌশলে নির্বাচনী প্রচারণা-য় নেমেছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। মানুষের আস্থা ও ব্যক্তিগত যোগাযোগকে ভিত্তি করে তিনি চালু করেছেন ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’ নামে এক নতুন ক্যাম্পেইন উদ্যোগ (Campaign Initiative)।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে ভোটের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন এই প্রার্থী।

ভাড়ার মিছিল নয়, আস্থাই আমাদের পাওয়ার (Power)

পোস্টে তাসনিম জারা রাজনীতির বাইরের মানুষ হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, “স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যখন মাত্র দেড় দিনে প্রায় ৫০০০ ভোটারের স্বাক্ষর প্রয়োজন ছিল, তখনই বুঝতে পারি, মানুষ আসলে রাজনীতির সঙ্গে এখন কতটা সম্পৃক্ত। বুঝতে পারি, আমাদের শক্তি হলো মানুষের আস্থা। ভাড়া করা মানুষ নিয়ে মিছিল বা কান ঝালাপালা করে দেওয়া মাইকিং নয়।”

নির্বাচন কমিশন পোস্টার লাগানো নিষেধ করলেও, প্রায় সব প্রার্থী সেই নিয়মের তোয়াক্কা করেননি। এই ‘পোস্টারের জঞ্জাল’ এবং ‘উচ্চশব্দের মাইকিং’ সবসময় তাঁকে কষ্ট দিত। তাই তিনি তাঁর টিমকে বলেন, পোস্টার টাঙাবেন না বা উচ্চ শব্দে মাইকিংও করবেন না। তাঁর এই সিদ্ধান্তে শুভাকাঙ্ক্ষীরা চিন্তিত হয়ে পড়লেও, জারা পুরোনো ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।

‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’: আন্তরিক কথোপকথনই শক্তিশালী টুলকিট

তাসনিম জারা তাঁর পোস্টে প্রচারণার মৌলিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি লিখেছেন, “রাস্তায় বড় মিছিল দেখলে বা কানের কাছে মাইক বাজলেই কি আপনি কাউকে ভোট দেবেন? সম্ভবত না। বরং এতে বিরক্তি বাড়ে। মানুষ ভোট দেয় ‘বিশ্বাস’ থেকে।”

এই বিশ্বাসটা তৈরি হয় যখন একজন বন্ধু, আত্মীয় বা সহকর্মী ফোন করে বলে, "দোস্ত, আমি উনার ইশতেহার পড়েছি, মানুষটা সৎ। চলো এবার উনাকে একটা সুযোগ দেই।" তিনি মনে করেন, এ ধরনের আন্তরিক কথোপকথন হাজারটা পোস্টারের চেয়েও শক্তিশালী। সেখান থেকেই আসে তাঁদের ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’-এর আইডিয়া।

নতুন রাজনীতির স্বপ্ন: টাকা বা পেশিশক্তি নয়, পরিবর্তনই লক্ষ্য

এই ক্যাম্পেইন মডেল-এর লক্ষ্য অত্যন্ত পরিষ্কার: যদি দেখানো যায় যে কান ঝালাপালা করা মাইকিং না করে, পোস্টার দিয়ে শহরটা জঞ্জাল না করে এবং কোটি টাকা খরচ করে শোডাউন না দিয়েও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী জিততে পারেন, তাহলে ভবিষ্যতে এমন অনেকেই রাজনীতিতে আসবেন যাদের টাকা বা পেশিশক্তি নেই; কিন্তু দেশ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ও যোগ্যতা আছে।

তাঁর এই ডিজিটাল ক্যাম্পেইন-এ মূলত দুটি ধাপ রাখা হয়েছে:

১. ক্যাম্পেইনার তাঁর পরিচিত কাউকে কল করে বলবেন কেন তাঁরা এই নির্বাচনে ডা. তাসনিম জারা-কে সাপোর্ট (Support) করছেন এবং তাঁদেরও সাপোর্ট চাইবেন। ২. সাপোর্ট দিতে চাইলে পোর্টালে এসে জানাতে হবে কতজনের সাপোর্ট সংগ্রহ করতে পেরেছেন। এরপর সেখান থেকেই তাঁদের কাছে ‘ভোটার স্লিপ’ বা ইশতেহার পাঠিয়ে দেওয়া যাবে।

তাসনিম জারা-র কাছে এই সাপোর্ট শুধু একটা ভোট নয়, এটা রাজনীতির যে নতুন ধারা তাঁরা তৈরি করতে চান, সেই মডেল কাজ করবে কি না, তা প্রমাণেরও উপায়। তিনি ভোটাধিকার বঞ্চিত মানুষের অংশগ্রহণে পরিবর্তন আনার এই 'টুলকিট'-কে সফল করতে সকলের সাহায্য চেয়েছেন।

Tags: social media independent candidate tasnim jara dhaka 9 election campaign digital campaign project dhaka 9 youth in politics