জনির নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ
আসাদুজ্জামান জনিকে মিথ্যা মামলা ও 'শো অ্যারেস্ট' দেখানোর প্রতিবাদে অভয়নগর বাজারের যশোর-খুলনা সড়ক এবং আশপাশের এলাকায় জনির সমর্থকরা একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। মিছিলটি বাজার এলাকা থেকে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের মুখে ছিল “মিথ্যা মামলা মানি না”, “জনিকে মুক্তি দাও”, এবং “নির্দোষ মানুষকে হয়রানি বন্ধ কর” ইত্যাদি স্লোগান।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, জনির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অপরাধের প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও তাকে রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, জনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকার কারণে একটি বিশেষ মহল তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। বক্তারা এই শো অ্যারেস্টকে সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা বলেও উল্লেখ করেন।
বাবার স্পর্শ বঞ্চিত শিশু কন্যার হৃদয়বিদারক চিত্র
সমাবেশে জনির পারিবারিক ও মানবিক দিকটি তুলে ধরা হয়, যা উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। বক্তারা জানান, জনির শো অ্যারেস্টের কারণে তার শিশু কন্যা কণা তৃনা গত ছয় মাস ধরে বাবার আদর ও স্পর্শ থেকে বঞ্চিত। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাবাকে কাছে না পেয়ে শিশুটি যেন হাসতেই ভুলে গেছে এবং আগের মতো আর হাসিখুশি থাকে না। এই মানবিক দিকটি বিক্ষোভে নতুন মাত্রা যোগ করে।
আইনের নামে হয়রানি ও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
জনির একজন সমর্থক বলেন, আইনের নামে নির্দোষ মানুষকে হয়রানি করা হলে তারা চুপ থাকবেন না। একজন বাবাকে তার সন্তানের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া শুধু অন্যায় নয়, এটি অমানবিক। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে জনির নিঃশর্ত মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়। একই সাথে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, দাবি আদায় না হলে আগামী দিনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। জনির শো অ্যারেস্টকে কেন্দ্র করে অভয়নগরের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত সুষ্ঠু সমাধান না এলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন।