• খেলা
  • ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: কমান্ডো নামাচ্ছে শ্রীলঙ্কা

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: কমান্ডো নামাচ্ছে শ্রীলঙ্কা

রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে বিশেষ সতর্ক শ্রীলঙ্কা সরকার; প্রেসিডেন্টদের নিরাপত্তায় ব্যবহৃত অভিজাত সশস্ত্র ইউনিট মোতায়েন।

খেলা ১ মিনিট পড়া
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: কমান্ডো নামাচ্ছে শ্রীলঙ্কা

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে গ্রুপ 'এ'-এর এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী অভিজাত সশস্ত্র কমান্ডো ইউনিট মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তকে অতিরিক্ত সতর্কতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে সরকার।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা। বিশেষ করে বহুল আলোচিত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী অভিজাত সশস্ত্র ইউনিট মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ম্যাচকে ঘিরে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শ্রীলঙ্কা সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

বিমানবন্দর থেকে স্টেডিয়াম—সর্বত্র সশস্ত্র নিরাপত্তা

শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী সুনীল কুমারা গামাগে জানিয়েছেন, টুর্নামেন্ট নির্বিঘ্নে আয়োজনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং ভারত–পাকিস্তান ম্যাচে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপ্রধানদের নিরাপত্তায় ব্যবহৃত হয়—এমন অভিজাত কমান্ডো ইউনিট দিয়ে দলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

নিরাপত্তা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, বিমানবন্দর থেকে শুরু করে হোটেল, অনুশীলন ভেন্যু ও ম্যাচ ভেন্যু পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সশস্ত্র নিরাপত্তা বলয় থাকবে। দলগুলো বিমান থেকে নামার মুহূর্ত থেকে শুরু করে ফেরার সময় পর্যন্ত সার্বক্ষণিক সুরক্ষার আওতায় থাকবে।

আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব ও নিরপেক্ষ থাকার বার্তা

রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে পাকিস্তান ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেয়। অন্যদিকে, নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখিয়ে বাংলাদেশও ভারতে ম্যাচ খেলতে অনীহা প্রকাশ করে। আইসিসি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বাংলাদেশ ইস্যুকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান সংহতির অংশ হিসেবে বিশ্বকাপ বয়কটের ইঙ্গিতও দিয়েছে, যা টুর্নামেন্টকে ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। তবে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনে শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে চায়। দেশটির ক্রিকেট সচিব বান্দুলা দিসানায়েকে জানিয়েছেন, শ্রীলঙ্কা কোনো আঞ্চলিক বিরোধে জড়াতে চায় না এবং সব দেশকেই বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে দেখে।

তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে ভবিষ্যতে যেকোনো দেশের জন্য নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে প্রস্তুত থাকবে কলম্বো।

বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ভেন্যু উন্নয়ন

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষে শ্রীলঙ্কা তাদের স্টেডিয়াম অবকাঠামোও আধুনিকায়ন করছে। কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবে নতুন ফ্লাডলাইট স্থাপন করা হয়েছে এবং ক্যান্ডির পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামও সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে।

আঞ্চলিক রাজনীতি, নিরাপত্তা উদ্বেগ ও বড় ম্যাচগুলোর চাপ—সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার জন্য এই আসর শুধু ক্রিকেট নয়, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনারও বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

Tags: sports news cricket t20 world cup india vs pakistan sri lanka security elite commando