• রাজনীতি
  • স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির অবসান ও আমূল সংস্কার: বগুড়ায় বিএনপির ভবিষ্যৎ রূপরেখা ঘোষণা

স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির অবসান ও আমূল সংস্কার: বগুড়ায় বিএনপির ভবিষ্যৎ রূপরেখা ঘোষণা

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির অবসান ও আমূল সংস্কার: বগুড়ায় বিএনপির ভবিষ্যৎ রূপরেখা ঘোষণা

বাজেটে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ এবং স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রতিশ্রুতি দিলেন ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।

দেশের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেছে বিএনপি। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল ও টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিএনপির প্রচারপত্র ও স্বাস্থ্যখাত সংস্কার বিষয়ক লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।

সুশাসন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’

স্বাস্থ্যখাতে জেঁকে বসা দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অবসান ঘটানোই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন ডা. রফিক। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যখাতকে জনগণের মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রথমেই সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘Zero Tolerance’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।” বিশেষ করে ওষুধ ক্রয়, আধুনিক Medical Equipment সরবরাহ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার মাধ্যমে এই খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।

বাজেটে বড় পরিবর্তন: জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ

দেশের বর্তমান Healthcare System-এ বাজেটের অপ্রতুলতার কথা উল্লেখ করে ডা. রফিকুল ইসলাম এক যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করে জিডিপির (GDP) কমপক্ষে ৫ শতাংশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হবে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষায়িত চিকিৎসা সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করতে।

বিশেষায়িত চিকিৎসা ও জনবল সংকট নিরসন

মতবিনিময় সভায় চিকিৎসক, নার্স ও শিক্ষার্থীরা জনবল সংকট এবং আধুনিক সরঞ্জামের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এর জবাবে ডা. রফিক বলেন, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে Specialized Treatment বা বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে। শূন্যপদ পূরণ করে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে রোগীদের ভোগান্তি লাঘব করা হবে। তিনি আরও যোগ করেন যে, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির সমন্বয়ে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ডিজিটাল হেলথ কার্ড ব্যবস্থা চালুর চিন্তা করছে বিএনপি।

গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষার আহ্বান

কর্মসূচি চলাকালীন উপস্থিত সুধীজনরা আগামী নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করলে ডা. রফিক তাদের আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। ভোটের দিন সকালে কেন্দ্রে গিয়ে আপনাদের রায় প্রদান করবেন।” শুধু স্বাস্থ্যখাত নয়, কৃষিকার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

লিফলেট বিতরণ ও মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল। এছাড়াও ড্যাব (DAB)-এর কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ডা. শাহ মো. শাহজাহান আলী, ডা. আসফারুল হাবিব রোজসহ হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির এই নতুন রূপরেখা ও সংস্কার পরিকল্পনা সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Tags: zero tolerance public health bangladesh politics bnp news medical education bogra news health reform dr rafiq healthcare system health budget