• রাজনীতি
  • ভোটের আমেজ বনাম চাপা আতঙ্ক, পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে উপস্থিতি।

ভোটের আমেজ বনাম চাপা আতঙ্ক, পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে উপস্থিতি।

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
ভোটের আমেজ বনাম চাপা আতঙ্ক, পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে উপস্থিতি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে ঢাকা-১১ (বাড্ডা-ভাটারা-রামপুরা) আসনের ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

নির্বাচনি প্রচারণায় উৎসবের আমেজ থাকলেও সাধারণ মানুষের মনে কাজ করছে সংঘাতের চাপা আতঙ্ক। তবে ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক হবে বলে আশা করছেন এই আসনের ভোটাররা।

সরেজমিনে বাড্ডা, রামপুরা, আফতাবনগর ও বনশ্রী এলাকা ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

ভোটারদের নিরাপত্তা ভাবনা

আফতাবনগরের বাসিন্দা আব্দুল হালিম বলেন, “প্রার্থীরা ভোট চাচ্ছেন, আমরাও দিতে চাই। যদি পরিবেশ ভালো থাকে এবং কোনও গন্ডগোল না হয়, তবে অবশ্যই কেন্দ্রে যাবো।

দক্ষিণ বাড্ডার ফরহাদ হোসেনের মতে, একদিকে উৎসবের আমেজ যেমন আছে, তেমনি মানুষের মনে আতঙ্কও আছে। সবকিছু নির্ভর করছে ভোটের দিনের পরিস্থিতির ওপর। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে আবার প্রার্থীরাও এই ব্যাপারে সতর্ক থেকে যেভাবে প্রচারনা চালাচ্ছেন, তাতে করে ভোটার উপস্থিতি ভালোই হবে।

বনশ্রীর বাসিন্দা ‍জুয়েল রানাও ভোট দিতে যাবেন উল্লেখ করে বলেন, “এখন পর্যন্ত পরিবেশ ভালো, এমন অবস্থা থাকলে ভালো ভোটার উপস্থিতি হবে।

তবে ভিন্ন সুরও পাওয়া গেছে অনেকের কণ্ঠে। রামপুরা ব্রিজের কাছের চা দোকানি আবুল কালাম— শরিয়তপুর জেলায় বাড়ি হলেও দীর্ঘদিন এই এলাকায় বসবাস করার সুবাদে তিনি রামপুরার ভোটার হয়েছেন। তিনি জানান, এখনও ভোট দিতে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। সাম্প্রতিক কিছু সহিংস ঘটনায় তিনি আতঙ্কিত। চারদিকের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। কোনও ক্ষতি হলে— কে দেখবে? তার চেয়ে বাসায় বসে থাকা ভালো, ক্ষতি হবেনা।

মেরুল বাড্ডা এলাকায় বসবাসরত অটোচালক আলামিনও শঙ্কার কথা জানান। তিনি বলেন, “প্রার্থীরা যেভাবে কথা বলছেন, তাতে ভোটের আগেই ভয় লাগছে।” তার মতে, পাড়ায় নির্বাচন নিয়ে লোকজনের মধ্যে আলাপ-চারিতা কম। এই কারণে তিনি ভোটকেন্দ্রে যাবেন কিনা— এ নিয়ে সংশয়ে আছেন।

বাড্ডা এলাকার লিংক রোড ও গুদারাঘাটের কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা বলেও একই ধরনের শঙ্কা ও সংশয়ের কথা জানা যায়। ভোট দিতে যাবেন কিনা, অথবা কাকে ভোট দেবেন এমন প্রশ্নে তারা বলেন, ভোট নিয়ে তাদের কোনও ভাবনা নেই। তাদের ভাষ্য হলো— “এখন আপনাকে নাম বলবো, আপনি পত্রিকায় লিখবেন, আমাদের কাছে লোকজন চলে আসবে। আমরা ভাই নাম বলতে চাইনা।

নির্বাচনি সমীকরণ

এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রার্থীদের পোস্টার ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। ঢাকা-১১ আসনে এবার মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটারদের আলোচনায় ঘুরেফিরে আসছে তিনজনের নাম— বিএনপির আব্দুল কাইয়ুম, ১১-দলীয় জোটের (এনসিপি) প্রার্থী নাহিদ ইসলাম (শাপলা কলি প্রতীক) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মোহাম্মদ ফজলে বারী মাসউদ।

ভোটারদের অনেকের মতে, আওয়ামী লীগ বিহীন এই নির্বাচনে বিএনপি ও এনসিপি প্রার্থীর মধ্যেই মূল লড়াই হতে পারে। এলাকার একজন বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক যেমন বলছেন যে, “ভোটের আমেজ তো আগের মতোই। আগে যেমন বিএনপি থাকতো না, এখন আওয়ামী লীগ নেই।” সব দলের অংশগ্রহণ থাকলে ভোটের আসল আমেজ পাওয়া যেতো বলে জানান তিনি। এই কারণে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া বা না-যাওয়াকে সমান বিবেচনা করছেন রাজ্জাক। তার মতে— কে জিতবে, তারা তা আগে থেকেই জানেন।

দ্বৈত ভোটের চ্যালেঞ্জ

এবার ভোটারদের একই সঙ্গে সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্র সংস্কার সংক্রান্ত গণভোটে (হ্যাঁ/না ভোট) অংশ নিতে হবে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা অস্পষ্টতাও কাজ করছে। রামপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকার দোকানিরা জানান, “শুনছি, এবার নাকি দুইটা ভোট। একটা ‘হ্যা’-‘না’ ভোট, আরেকটা মার্কার। আমরা এখনও চিন্তা করছি কেন্দ্রে যাবো কি না।

পরিসংখ্যানে ঢাকা-১১

ঢাকা-১১ আসন মূলত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বাড্ডা থানা, ভাটারা থানা, রামপুরা থানা, হাতিরঝিল থানার একাংশের ২১, ২২, ২৩, ৩৭, ৩৮, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত।

এই আসনে মোট ভোটার— ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার— ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯৮ জন, মহিলা ভোটার— ২ লাখ ২২ হাজার ৮৭৭ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন।

ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে কারও কারও মধ্যে চাপা আতঙ্ক ও সংশয় থাকলেও এলাকার ভোটারদের প্রত্যাশা, প্রার্থীরা ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখবেন এবং প্রশাসন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। যাতে ভয়হীন চিত্তে সবাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

Tags: পরিস্থিতি ভোটের আমেজ চাপা আতঙ্ক নির্ভর উপস্থিতি