হামলায় পুলিশ স্টেশন, বাড়ি এবং তাবু লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এ হামলায় তিন শিশুসহ কমপক্ষে ২৭ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
গাজার চিকিৎসক ও পুলিশ জানিয়েছে, গাজা শহরের পশ্চিমে শেখ রাদওয়ান পুলিশ স্টেশনে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের বোমা হামলায় ১০ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও বন্দী নিহত হয়েছেন। হামাস-নিয়ন্ত্রিত পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে আরও হতাহতের সন্ধান করছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, অন্যান্য বিমান হামলা উত্তর-মধ্য গাজার অন্তত দুটি বাড়ি এবং দক্ষিণে খান ইউনিসে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়দানকারী একটি তাঁবু শিবিরে আঘাত হানা হয়েছে।
গাজা সিটির ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, একটি বহুতল ভবনের একটি অ্যাপার্টমেন্ট আগুনে পুড়ে কালো হয়ে গেছে, দেয়ালগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং ভবনের ভেতরে ও বাইরে রাস্তাজুড়ে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামাস ও সহযোগী ইসলামী জিহাদের কমান্ডার ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করেই এ হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, শুক্রবার দক্ষিণ গাজার রাফাহে একটি সুড়ঙ্গ থেকে আটজন বন্দুকধারী বেরিয়ে আসার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান চালানো হয়। এ সময় তিনজন নিহত হন এবং হামাসের এক স্থানীয় কমান্ডারকে গ্রেফতার করা হয়। এ বিষয়ে হামাস কোনও মন্তব্য করেনি।
উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতির পরও উভয় পক্ষের সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, ইসরায়েলি হামলায় ৫০০ এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক। পাল্টা হামলায় ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা চারজন ইসরায়েলি সেনাকে হত্যা করেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষকে শান্তি চুক্তির পরবর্তী ধাপে এগোতে চাপ দিচ্ছে, যেখানে হামাসের অস্ত্র ত্যাগ, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ও আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী মোতায়েনের মতো বিষয় রয়েছে।